১১ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘মাজা’, ‘ফাজ’ কিংবা ‘গুডি’ ডাক নামে পরিচিত মারে গুডউইন ১.৭৭ মিটার উচ্চতার অধিকারী। হারারেভিত্তিক সেন্ট জোন্সে অধ্যয়ন করেন। এরপর, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বানবারিভিত্তিক নিউটনমুর সিনিয়র হাইয়ে পড়াশুনো করেছেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল বিশ্ব একাদশ, নেদারল্যান্ডস, আহমেদাবাদ রকেটস, সুবিয়াকো-ফ্লোরেট ও ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলেছেন।
পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র ভ্রমণে আগ্রহী ক্রিকেটারদের অন্যতম। রোডেশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে, কৈশোরকালীন অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার অভিবাসিত হয়। এরপর জিম্বাবুয়ের পক্ষে ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শীর্ষসারিতে প্রথম চারটি অবস্থানের যে কোনটিতে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডের বেশ শক্ত ও বাউন্সি পিচে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুর দিনগুলোয় অনুশীলন করার সুযোগ লাভ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, পিছনের পায়ে ভর রেখে খেলার উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তোলার প্রয়াস পেয়েছিলেন। পেসারদের বলগুলোকে কাট ও পুল সহযোগে মোকাবেলায় দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। পাশাপাশি, নিজ দেশে যে-কোন ধরনের স্পিন বোলিং মোকাবেলায় আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সরু পদযুগল ব্যবহারে তৎপরতা দেখান। ফিল্ডার হিসেবে মাঠে ক্ষীপ্রতা ও সতর্কতার সাথে ভূমিকা রাখতেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ৭১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৭ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ফলো-অনের কবলে পড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০ রান তুলে বিরাট প্রভাব ফেলেন। প্রথম ইনিংসে ২ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ৮ উইকেটে পরাজিত হয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরের ২২ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
চমৎকারভাবে সহজাত ভঙ্গীমায় স্ট্রোক খেলতে অভ্যস্ত। সংক্ষিপ্ত টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটি শতরানের ইনিংস খেলে নিজেকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন। তন্মধ্যে, বুলাওয়েতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন ১৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট রান হিসেবে পরিগণিত হয়।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে আলিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৯ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে ব্লোমফন্তেইনের গুডইয়ার পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। জ্যাক ক্যালিসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০০ সালে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে দারুণ খেলেন। ১৪৮* ও ১* রান সংগ্রহ করে অসামান্য দৃঢ়তার পরিচয় দেন ও খেলাটিকে ড্রয়ে পরিণত করান। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তবে, স্বাগতিক দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টের পাশাপাশি একদিনের আন্তর্জাতিকেও বেশ সফলতা লাভ করেছিলেন। ওডিআইগুলোয় ২৭-এর অল্প বেশী গড়ে ১৮১৮ রান পেয়েছেন। ২০০০ সালে ইংল্যান্ড সফর শেষে বর্ণাঢ্যময় টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটান মূলতঃ জিম্বাবুয়েতে অবস্থানকারী স্ত্রীর মানিয়ে নিতে না পারার কারণে। এ পর্যায়ে ৪২.৮৪ গড়ে ১৪১৪ রান সংগ্রহ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ঘরোয়া পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে থাকেন ও নিয়মিতভাবে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের পক্ষে খেলেন। ২০০১ সালে ধারাবাহিকতার সাথে খেলার পর দুই বছরের মধ্যে নিজেকে সেরা খেলোয়াড়ের আসনে নিয়ে যান। ২০০৩ সালে সাসেক্সের অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৩৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ক্লাব রেকর্ড গড়েন। ১৬৪ বছরের ইতিহাসে দলের প্রথম শিরোপা বিজয়ে অসম্ভব ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২০০৬ সালে সিএন্ডজি ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়ে দলের সফলতায় অংশ নেন। ২০০৯ সালে সমারসেটের বিপক্ষে ৩৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিজের রেকর্ডকে আরও স্ফীততর করে তুলেন।
এছাড়াও, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপেও দূর্দান্ত খেলেছিলেন। বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, ২০০৩-০৪ মৌসুমে ১১৮৩ রান ও পরবর্তী গ্রীষ্মে ৮৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, রাজ্যের ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর রান সংগ্রহকারী শীর্ষ ১৫ স্থানে জায়গা করে নেন।
অনুমোদনহীন আইসিএলের দ্বিতীয় আসরে অংশ নিয়েছিলেন। আহমেদাবাদ রকেটসের প্রতিনিধিত্ব করেন ও আট খেলায় অংশ নেন। এরপর সাসেক্সে ফিরে যান। আগস্ট, ২০১২ সালে সাসেক্স থেকে অবমুক্তি পান। তারপর, ২০১৩ সালে ওয়েলসের কাউন্টি দল গ্ল্যামারগনে ধারকৃত খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিতে থাকেন। এরফলে, ক্লাবের ব্যাটিংয়ের অবস্থান আরও শক্ত হয়। পাশাপাশি, দলের তরুণ খেলোয়াড়দেরকেও উজ্জ্বীবিত করে তুলেন। ২০১৪ সালে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেন।
সব মিলিয়ে সাসেক্সের পক্ষে বিভিন্ন স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২৪০০০-এর অধিক রান তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেডেন নামীয় সন্তান ওয়েলসের অনূর্ধ্ব-১১ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।
