২০ মার্চ, ১৮৬৬ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ক্যারিজফোর্ট হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতাবিশিষ্ট রবার্ট পুর ‘মেজর-জেনারেল পুর’ নামে পরিচিত ছিলেন। ক্রিকেটের বাইরে মেজর-জেনারেল পদবী ধারণ করতেন। ১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও ভারতীয় ক্রিকেটে ইউরোপিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে ১৮৯৮ থেকে ১৯০৬ সময়কালে খেলেন। তবে, পেশাদার সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দলে নিয়মিতভাবে খেলেননি। তবে, ১৮৯৯ সালের ১২ জুন থেকে ১২ আগস্ট সময়কালে দুই মাস খেলে স্মরণীয় সাফল্য পান। অনেকাংশে হ্যাম্পশায়ারের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। এ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নশীপের নয়টি খেলায় অংশ নিয়ে ১১৬.৬০ গড়ে সাত শতক সহযোগে ১৩৯৯ রান তুলেন। এক মৌসুমে দলের তৎকালীন রেকর্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। ২০ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে টানটনে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় সমারসেটের বিপক্ষে ৩০৪ রানের ত্রি-শতক হাঁকান। এ পর্যায়ে হ্যাম্পশায়ারের তৎকালীন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, টেডি ওয়েনওয়ার্ডের (২২৫) সাথে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৪১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ জুটির সংগ্রহটি হ্যাম্পশায়ারের সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১৫১ রানের ব্যবধানে জয় পায়। ঐ সময়ে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল।

ঐ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বোয়ের যুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে, ১৯০২ থেকে ১৯০৬ সময়কালে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে আর মাত্র ১৪ খেলায় অংশ নেন। ১৮৯৯ সালে দূর্দান্ত খেলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

১৮৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে টিম ও’ব্রায়ানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। যোসেফ উইলোবি, চার্লস হাইম, জিমি সিনক্লেয়ার, ফ্রেডরিক কুক, বোনর মিডলটন ও রবার্ট গ্লিসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের সদস্যরূপে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২০ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২১ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৪ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে ইংল্যান্ডের বসকোম্ব এলাকায় ৭২ বছর ১১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মার্কো জানসেন

    ১ মে, ২০০০ তারিখে ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক জোর দিয়ে থাকেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লায়েরস্কুল গুডকপে অধ্যয়ন করেছেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি (২.০৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে নয় মাসের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে তাঁর উত্থান…

  • |

    নাথান অ্যাসলে

    ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার…

  • | |

    জোনাথন অ্যাগ্নিউ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৬০ তারিখে চেশায়ারের ম্যাকলসফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জোনাথন অ্যাগ্নিউ ‘স্পাইরো কিংবা ‘অ্যাজার্স’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। আপিংহাম স্কুলে…

  • |

    শ্রীকর ভরত

    ৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, গুজরাত টাইটান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩…

  • | |

    ডেভিড ওয়ার্নার

    ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ-ব্রেক কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। অসাধারণ ফিল্ডিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধ্বংসী ও ক্ষীপ্রতা সহকারে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। হাওয়ার্ড ওয়ার্নার…

  • | |

    এমফুনেকো এনগাম

    ২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মিডলড্রিফ্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ব্ল্যাক থান্ডার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মাদারওয়েলের ডগলাস এমবোপায় অধ্যয়ন করেছেন। একদা দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট-বোলিং জগতে পূর্ণাঙ্গ আশার প্রদীপ জ্বেলে…