|

ডিওয়াল্ড ব্রেভিস

২৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

হেনোসপার্কে অধ্যয়ন করেছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, এমআই কেপটাউন, এমআই নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক স্ট্রাইকার্স, স্যাম্প আর্মি, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯, নর্দার্নস অনূর্ধ্ব-১৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত টাইটান্স বনাম ডলফিন্সের মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অসাধারণ খেলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি শীর্ষ রান সংগ্রাহক ছিলেন। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে কোচ শুকরি কনরাড তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার টি২০আই দলে রাখেন। এমনকি ওডিআই বিশ্বকাপ দলে খেলারও সমূহ সম্ভাবনা ছিল। তবে, প্রথম দুই খেলায় আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে তিনি মাত্র ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরফলে, তৃতীয় খেলা থেকে বাদ পড়েন। এভাবেই তাঁর পরীক্ষামূলক অংশগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে ও তাঁকে আর জাতীয় দলে খেলার জন্যে বিবেচনায় আনা হয়নি। কয়েক বছর বাইরে থাকার পর পুণরায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিয়ে প্রত্যাশাকেও ছাঁপিয়ে যান। ২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতার দুই মৌসুমে চার শতক সহযোগে ৪৪ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহ করেন। নিজেকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলার উপযোগী করে গড়ে তুলেন। একই সময়ে ক্ষুদ্রতর সংস্করণের ক্রিকেটেও নিজের প্রতিভা বিকাশে সোচ্চার ছিলেন। ২০২২ সালে নাইটসের বিপক্ষে টি২০ খেলায় ৫৭ বলে ১৬২ রান তুলেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমের ওয়ান-ডে চ্যালেঞ্জে তৃতীয় ও ২০২৪-২৫ মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। ২০২৫ সালের এসএ২০ প্রতিযোগিতায় শিরোপাধারী দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। আইপিএলের ছয় ইনিংস থেকে দুইটি অর্ধ-শতক করেন। এছাড়াও, টি২০ ব্ল্যাস্টে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

গেল ১১ বছরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে সফরে যায়। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিতব্য স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে ২৭ জুন তারিখে ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা দলে লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস ও কোডি ইউসুফের সাথে তাঁকেও রাখা হয়। ২২ বছর বয়সী উচ্ছ্বসিত ডিওয়াল্ড ব্রেভিস এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ‘টেস্ট ক্রিকেট মানেই বিশেষ কিছু। এটিই অবশ্যম্ভাবী ঠিকানা।’

২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আই খেলছেন। ২০২৫ সালে উইয়ান মুল্ডারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফর করেন। ২৮ জুন, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস ও কোডি ইউসুফের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অপর অভিষেকধারী লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ৩০ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

২০২৫-২৬ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেকধারী আসিফ আফ্রিদি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে তাঁর দল ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

Similar Posts

  • |

    ট্রেন্ট বোল্ট

    ২২ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে রোতোরুয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে সুইং বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শনসহ শেষেরদিকের ওভারগুলো পেস ও নিশানা বরাবর বল ফেলে চাতুর্য্যতার পরিচয় দিয়েছেন। ওয়াসিম আকরামের সাফল্যে উজ্জ্বীবিত…

  • | |

    মিক মলোন

    ৯ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার স্কারবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিকলিকে গড়নের অধিকারী। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও…

  • |

    বিল ও’রিলি

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের হোয়াইট ক্লিফসে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা লেগ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন। স্পিন বোলিংয়ের তুলনায় ফাস্ট বোলিংয়ে নিজেকে অধিক সামলিয়ে নিতে পেরেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলীয় লেগ-স্পিনার হিসেবে বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন। অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার হিসেবে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে…

  • | |

    চার্লস ইডি

    ২৯ অক্টোবর, ১৮৭০ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আইনজীবী ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জর্জ ইডি ও জেন সারাহ দম্পতির সন্তান ছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী চার্লস ইডি এফ. ডব্লিউ. নরম্যান্স ডারওয়েন্ট…

  • | |

    মন্নভা প্রসাদ

    ২৪ এপ্রিল, ১৯৭৫ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রচণ্ড পরিশ্রমী ও দক্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ দলে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে…

  • |

    সাদিরা সামারাবিক্রমা

    ৩০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় দৃষ্টিনন্দন উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুত রান তুলতে তৎপরতা দেখাতেন। বিদ্যালয় থেকে চলে আসা খুব স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের…