৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করছেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কঠোর সংগ্রামের মধ্যে মাত্র আট বছর বয়স থেকে ক্রিকেট জীবনে জড়িয়ে পড়েন। পিতার অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ দুই ভাইয়ের একজন রিক্সাচালক ও অপরজন মুদি দোকানী ছিলেন। ছাত্রজীবনে ক্রিকেট খেলায় পূর্ণাঙ্গতা আনয়ণে অর্থ উপার্জনের জন্যে বেশ পরিশ্রম করতেন। কলেজে অধ্যয়নকালে অন্যদের ক্রিকেট ব্যাটের হাতল ও গ্রীপ মেরামতে চারশত থেকে পাঁচশত রূপী অর্থ লাভ করতেন। ঐ অর্থ দিয়ে নিজের ক্রিকেট সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করতেন।
বিস্ময়করভাবে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিলেন ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের টেপ-বল ক্রিকেটে খেলতে যেতেন। শক্ত ব্যাটিং অবস্থানের কারণে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রিফাতুল্লাহ মোমান্দের ন্যায় খেলোয়াড়সমৃদ্ধ পেশাওয়ারের আঞ্চলিক দলে ঠাঁই লাভে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে দুবাইয়ে চলে যান। বিমানবন্দরে পাঁচ দিনের কাজের পরিবর্তে শনি ও রবিবার – এ দুই-দিনের ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। তবে, ছয় মাস পরই মায়ের অনুরোধে দেশে ফিরে আসেন।
পেশাওয়ার রিজিওন গ্রেড টুয়ের যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন ও নির্বাচিত হলে তাঁর জীবনে মোড় ঘুরে যায়। দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন। এ পর্যায়ে তাঁর জুতো ছিল না ও ইমরান খান স্বয়ং তাঁকে জুতো জোড়া উপহার দেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পেশাওয়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২২ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত পেশাওয়ার বনাম ওয়াপদার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। চার ওভার থেকে ছয় উইকেট তুলে নেন ও আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো পরিবর্তিত হলে খাইবার পাখতুনখোয়ার দ্বিতীয় একাদশে খেলার জন্যে মনোনীত হন। সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হন। বালুচিস্তানের বিপক্ষে খেলায় ৯৬ রান তুলেন ও ১৩ উইকেট দখল করেন। পরের খেলাতেই প্রথম একাদশে প্রবেশ করেন। বালুচিস্তানের বিপক্ষে আট উইকেট পান। ঐ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শীর্ষ পাঁচজন বোলারের অন্যতম হন।
২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঐ বছর বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ২৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকের দুই দশক পূর্বে তাঁর পিতা সীমান্তবর্তী এলাকায় শহীদ হন। ০/৩৭ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, হাসান আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৬ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২১-২২ মৌসুমে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৮/৪২ ও ৪/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসামান্য বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
প্রথম চার টেস্ট থেকে ১৮ উইকেট পান। তন্মধ্যে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৮ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে ৮/৪২ নিয়ে পাকিস্তানের চতুর্থ সেরা বোলিং রেকর্ড দাঁড় করান।
২০২৩-২৪ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৩ ও ২/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, আমির জামালের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬/১২৮ ও ৪/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সৌদ শাকিলের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। ঐ সিরিজে ৭২ রান সংগ্রহসহ ১৯ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে কেইউ কার্টি’র দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পাশাপাশি, টেস্টে চতুর্থবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এ পর্যায়ে ২৭.৩৪ গড়ে ৫৩ উইকেট পান। খেলায় তিনি ৪/৬৫ ও ৫/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জোমেল ওয়ারিকানের শিকারে পরিণত হন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১২৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১১৯ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ১৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কেশব মহারাজের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।
