২৩ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, লাহোর, লাহোর ব্লুজ ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এডমন্টন রয়্যালস, লাহোর লায়ন্স, লাহোর কালান্দার্স, লাহোর রিজিওন ব্লুজ ও লাহোর শালিমারের পক্ষে খেলেছেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত লাহোর রবি বনাম লাহোর শালিমারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। লাহোর লায়ন্স দলে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছেন।
২০২২ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২২ জুন, ২০২২ তারিখে শ্রীলঙ্কা সফরকে ঘিরে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান। ১৬ জুলাই, ২০২২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, আব্দুল্লাহ শফিকের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৩ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। পুরো সিরিজে অপূর্ব খেলেন। ২৪ জুলাই, ২০২৩ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, আব্দুল্লাহ শফিকের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এছাড়াও, এ সিরিজে ২২১ রান ও ৩ উইকেট দখল করে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০২৪ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ১৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৩৬ ও ০/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৫ ও ২৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে কেশব মহারাজের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।
