২০ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে সেন্ট্রাল পাঞ্জাব ও বালুচিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স ও মুলতান সুলতান্সের পক্ষে খেলেছেন। ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সেন্ট্রাল পাঞ্জাব বনাম সাউদার্ন পাঞ্জাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০২০ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১০ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন।
২০২১-২২ মৌসুমে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫২ ও ৭৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, আবিদ আলী’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২২ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৬ জুলাই, ২০২২ তারিখে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অবিস্মরণীয় খেলা উপহার দেন। ১৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ৩৪২ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পাকিস্তান দলকে সহায়তা করেন। এরফলে, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর দল চার উইকেটে জয় পায় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। টেস্টের ইতিহাসে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ও গলেতে সর্বোচ্চ রান টপকে যায়। এ পর্যায়ে ৫২৪ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে ৪০৮ বল মোকাবেলায় দ্বিতীয় টেস্ট শতক হাঁকান। মাত্র আটটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। বাবর আজম ও ইউনুস খানের পর চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, সফলতম জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেস্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচ শতাধিক মিনিট ব্যয় করেছিলেন। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক বাবর আজমের সাথে ১০১ রানের জুটি গড়েন। বামহাতি স্পিনার প্রভাত জয়সুরিয়া’র বলে বিদেয় নেন।
২৭ জুলাই, ২০২২ তারিখে ছয় টেস্টে অংশ নেয়ার পর রেটিং পয়েন্ট অর্জনের দিক দিয়ে কেবলমাত্র সুনীল গাভাস্কার ও ডন ব্র্যাডম্যানের পিছনে অবস্থান করেন। এ সময়ে তিনি দুইটি শতক ও চারটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান।
২০২৩ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৩ জুলাই, ২০২৩ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২০১ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৪ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সৌদ শাকিলের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৭ ও ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়।
