|

ব্রায়ান ইল

২৯ অক্টোবর, ১৯৪১ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। তবে, কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডে অসাধারণ খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ অবশেষে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯/১০০ লাভ করেন। দুই মৌসুম বাদে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজস্ব একমাত্র শতক হাঁকান।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যারি সিনক্লেয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, এটিই টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহে পরিণত হয়। সফরকারীরা ইনিংস ও ২১৫ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজে ৫৪ ওভারে ৪/৪৩ পান। ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ১১২ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন। এগুলোও তাঁর সেরা ব্যক্তিগত সাফল্য ছিল। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। বোলার হিসেবেও চমৎকার ভূমিকা রেখেছিলেন। ৩৫.৬৭ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনু্ষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে সাঈদ আহমেদকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২৮। খেলায় তিনি ৪/৪৩ ও ০/৩৯ লাভ করেন। এছাড়াও, ০ ও ৩০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ২ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে খেলেন। বল হাতে নিয়ে ২/৬২ ও ১/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে সেলিম দুরানি’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ১২ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৭ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

ধর্মীয় কারণে খেলোয়াড়ী জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাননি। মাত্র ১৭ টেস্টে অংশ নেয়ার পরপরই ভবিষ্যতের সফরগুলো থেকে উপেক্ষিত হন। ব্রুস মারেভিক পোলার্ডের সাথে তিনিও রবিবারে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু, নিউজিল্যান্ডে রবিবার খেলার আয়োজন করা হলে তাঁরা প্রত্যেকেই স্থানচ্যূত হন। ১৯৬৯ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁর পরিবর্তে হ্যাডলি হাওয়ার্থকে দলে রাখা হয়। তাসত্ত্বেও, প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৬৩.৮৩ গড়ে ৩৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ৩০ অক্টোবর, ১৯৬৯ লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    পথুম নিসাঙ্কা

    ১৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক ইসিপাথানা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • | |

    টাটেন্ডা তাইবু

    ২৪ মে, ১৯৮৩ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৬৫ মিটার) উচ্চতার বাঁধা ডিঙ্গানো ‘টিবলি’ ডাকনামে পরিচিত টাটেন্ডা তাইবু হাল্কা-পাতলা…

  • |

    জিম পথক্যারি

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী উপহার দিতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। উভয়দিক দিয়েই বলকে সুইং করাতে পারতেন। ১৯৫৪-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    এলপি জয়

    ১ এপ্রিল, ১৯০২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯৪১-৪২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিন্দু ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    আনোয়ার হোসেন

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পিজু’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিসের পক্ষে খেলেছেন।…

  • |

    ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২…