|

বিলাল আসিফ

২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে শিয়ালকোটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স, শিয়ালকোট রিজিওন ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১১ সালে ২৬ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। প্রথম চার মৌসুমে মাত্র ১১ খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৪-১৫ মৌসুমেই কেবল সফলতম সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ছয় খেলা থেকে ৩১০ রান তুলেন। তন্মধ্যে, নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকালীন খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেছিলেন। মে, ২০১৫ সালে সুপার৯ টি২০ কাপে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁকে প্রথম চিত্রিত করা হয়। এ পর্যায়ে ৪৮ বলে ১১৪ রান তুলেছিলেন।

কৌশলগতভাবে দক্ষ ব্যাটসম্যান ছিলেন। শুধুমাত্র ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখাননি। পাশাপাশি অফ-স্পিন বোলিংয়েও সফল ছিলেন। এ পর্যায়ে পাকিস্তান দল থেকে সাঈদ আজমলমোহাম্মদ হাফিজকে সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কারণে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে জাতীয় পর্যায়ের টি২০ প্রতিযোগিতায় নয় উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। কিন্তু, কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান। কিন্তু, ঐ খেলার পরপরই সন্দেহজনক বোলিংয়ের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এরফলে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যায়। তাসত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছিলেন। মুশতাক আহমেদের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেকে ব্যাপকভাবে উপরের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ অক্টোবর, ২০১৮ সালে পুণরায় তাঁকে খেলায় সুযোগ দেয়া হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৭ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে দুবাইয়ে অপর সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। তিন বছর পূর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাকালীন অভিযোগের পর থেকে প্রথম খেলেন। শাদাব খানের আঘাতের কারণে প্রথম একাদশে যুক্ত হন। অভিষেক টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত উদযাপিত করেন। এক অধিবেশনের অল্প অধিক সময়ে অস্ট্রেলীয়দেরকে হিমশিম খাওয়ান। ৬/৩৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লে প্রতিপক্ষের শেষ দশ উইকেটে মাত্র ৬০ রান যুক্ত হয়। স্পিনারদের উপযোগী না হলেও পঞ্চমদিনের বিকেলের অধিবেশনের পূর্ব পর্যন্ত দলীয় সঙ্গী ইয়াসির শাহ কোন উইকেট পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ০/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, উসমান খাজা’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৫/৬৫ ও ০/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১১ ও ১২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় নিউজিল্যান্ড দল ১২৩ রানে জয় পেয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

বোলিং ভঙ্গীমায় পুণরায় নতুনত্ব আনেন। দুই অফ-স্পিনার – আরশাদ খানের দৌঁড়ুনোর ভঙ্গীমা ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের ন্যায় কব্জী বাঁকানো এতে যুক্ত করেন। দুসরার পাশাপাশি অফ-স্পিন বোলিংয়ে দূর্দান্ত সফলতা পান। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে ফাহিম আশরাফের সাথে তাঁকেও পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

Similar Posts

  • |

    টিনো ময়োয়ু

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে মনিকাল্যান্ডের আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে এগিয়ে আসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ও জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এরপূর্বেই অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পড়াশুনোয় মনোনিবেশ…

  • | |

    অ্যান্ডি গ্যানটিউম

    ২২ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তাঁর পিতা-মাতা। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ডেনিস লিলি

    ১৮ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তী তারকা। বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং শুধুমাত্র অস্ট্রলীয়দের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিকভাবে বীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • | |

    গ্যারি কার্স্টেন

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রন্ডেবশ বিএইচএসে অধ্যয়ন করেন। এরপর, কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম…

  • |

    আসিফ মাসুদ

    ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘাকায় ও মজবুত গড়নের কারণে নতুন বল নিয়ে বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতেন। তেমন দ্রুতসম্পন্ন বোলিং না করলেও বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণসহ বেশ…

  • |

    ইকবাল সিদ্দিকী

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…