১৩ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
তিন ভাইয়ের অন্যতম হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে উইকেট-রক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে উইকেট-রক্ষক হিসেবে তিনিই অধিক সফল ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, মুলতান, সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্স লিমিটেড ও জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে পেশাওয়ারে অনুষ্ঠিত করাচী পোর্ট ট্রাস্ট বনাম পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সূচনা ঘটান।
২০১০ থেকে ২০১৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১০-১১ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। সেখানে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন ও একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইউনুস খানের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কামরান আকমলের স্থলাভিষিক্ত হন ও তারপর থেকে দলে থিঁতু হন। পাকিস্তানের পক্ষে অনেক পূর্ব থেকেই খেলতে পারতেন। ২০০৪ সালে দূর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ত্রি-দেশীয় সিরিজকে ঘিরে জাতীয় দলের অনুশীলনীতে তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বেশ বিতর্কের পর সহোদরকে রাখা হয়। তবে, ঐ সময়ে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে নিয়োজিত বব উলমারের অভিমত, আদনান আকমল দেশের সেরা উইকেট-রক্ষক ছিলেন।
ঘরোয়া আসরে ক্রমাগত সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেও ভুল করার প্রবণতার ফলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরের বাইরে চলে যান। অবশেষে জুলকারনাইন হায়দারের পরিবর্তে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। তবে, নিজেকে তুলে ধরার জন্যে চতুর্থ টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
২০১০-১১ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৮ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, আব্দুর রেহমানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
জানুয়ারি, ২০১১ সালে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত নিজস্ব চতুর্থ টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। আটটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। তাসত্ত্বেও কোনরূপ ব্যাখ্যা ছাড়াই টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। ঐ বছরের শেষদিকে পুণরায় টেস্ট দলে ঠাঁই পান।
২০১৩-১৪ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। সেখানে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। গ্লাভস হাতে পাঁচটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
