৬ আগস্ট, ১৯৮৪ তারিখে ওয়েলিংটনের মাস্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। গালি অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।
ক্লাব ক্রিকেটার পিতা পিটার রাইডারের তত্ত্বাবধানে বড় হন। ইনডোর ক্রিকেটের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। ১৬ বছর বয়সে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস অনূর্ধ্ব-১৭ দলের পক্ষে খেলেন। প্রথম তিনটি ইনিংসে ৫৮, ৫০ ও ৪৪ রান তুলেন। ১৭ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেছিলেন। টাউন্সভিলে অনুষ্ঠিত ২০০২ সালের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। ১৮ বছর বয়সী জেসি রাইডার নিউজিল্যান্ড একাডেমির পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন ও অস্ট্রেলিয়ান একাডেমির বিপক্ষে ১৮১ রান তুলেন। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৩৬ গড়ে ও ১০৮ স্ট্রাইক রেটে ১৭৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়ে দারুণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। নেপিয়ার বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন। ক্লাব ক্রিকেটে নেইনেই ওল্ড বয়েজের পক্ষাবলম্বন করেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওতাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ড, পুনে ওয়ারিয়র্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সেন্ট লুসিয়া স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের সদস্যরূপে স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে অকল্যান্ড এইসেসের বিপক্ষে অভিষেক হয়। ২০০৪-০৫ মৌসুমে সেন্ট্রাল স্ট্যাগসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৩৬ রান তুলেন। এছাড়াও, একই মৌসুমে ওতাগো ভোল্টসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/২৩ বোলিং করেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। দূর্দান্ত খেলে ব্ল্যাক ক্যাপস দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট, ৪৮টি ওডিআই ও ২২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ওয়েলিংটনে একই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১ ও ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জেরোম টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানে পৌঁছানোকালে ৫০০ রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পূর্বতন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯১ রান অতিক্রম করেন। পাশাপাশি, টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ১০২ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১০-১১ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অধিনায়কত্বে কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো ভারত গমন করেন। ৪ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ১০৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১১-১২ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ শতক সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৭ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
নভেম্বর, ২০১৪ সালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাননি। ২০১৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে সফরে আসা অস্ট্রেলিয়ার দলের বিপক্ষে এসেক্সের সদস্যরূপে দারুণ খেলেছিলেন। প্রথম আট বল থেকে ৩০ রান তুলেন ও ১৯ বল মোকাবেলায় ৩৭ রান তুলে মিচেল স্টার্কের শিকারে পরিণত হন। ঐ খেলায় তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। এর একমাস পূর্বে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে দশ উইকেট লাভ করেছিলেন।
২৮ মার্চ, ২০১৩ তারিখে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কর্তৃক মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পিতা পিটার রাইডার ও মাতা হিদারের মধ্যকার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।
