১২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ব্যতিক্রমধর্মী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত হাবিব ব্যাংক লিমিটেড বনাম পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের ক্রিকেটে তাঁর ন্যায় পাকিস্তানের অন্য কোন খেলোয়াড় অধিক রানের সন্ধান পাননি। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ওডিআই ক্রিকেটে ১৬৯৫ রান তুলে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ১৬ বছর ৩১ দিন বয়সে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। একই বছরে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে বড় ধরনের রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান। প্রথম ছয়টি শতকের তিনটিই দেড় শতাধিক রানের ছিল।
লাহোরের কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। শুরুরদিকে পাঞ্জাব ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন। ১৮ বছরের পূর্ব পর্যন্ত পিতা তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ব্যাপক সহযোগিতা করে সফলতম ক্রিকেটারে রূপান্তরিত করেন। কিশোর অবস্থাতেই বেশ ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দেন ও নিজের উইকেট মূল্য সম্পর্কে সজাগ ছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের স্থবিরতাকালীন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। দুইটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ২০১৪ সালের প্রতিযোগিতায় দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। এছাড়াও, ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ পর্যায়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের অনুসন্ধানে দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে পড়েন। ত্রি-দেশীয় সিরিজে দুইটি শতক হাঁকান। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় ১১০ রান তুলেছিলেন। এরপর, ২০১৩-১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে আরও একটি শতরানের ইনিংস খেলে দলের বিজয়ে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন।
ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে একদিনের খেলায় ক্রমাগত রানের ফুলঝুড়ি তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ শুধুমাত্র যে পাকিস্তান ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যেই মনোনীত হননি তা নয়; বরঞ্চ অক্টোবর, ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অল্পের জন্যে তাঁকে মূল দলে রাখা হয়নি। এ পর্যায়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।
২০১৫ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৫ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ওডিআই খেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ওডিআই দলে যুক্ত করা হয়। ২২ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূচনা ঘটান। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৫০ বলে ৪৫ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেছিলেন।
এর পরপরই বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। তবে, তিন ইনিংস খেলে মাত্র ৪৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। ২৮ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র ইনিংসে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, তামিম ইকবালের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরতে প্রয়াস চালান। স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাফল্য পান। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ৮২ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩৯ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ শতকের সুবাদে পাকিস্তান দল ৬৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। ঐ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে হাডার্সফিল্ড প্রিমিয়ারশীপে শেলি সিসির পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। অপরিচিত পরিবেশে কয়েকটি ভালোমানের ইনিংস খেলার পর ঐ মৌসুম জুড়ে তাঁর কার্যকর লেগ-স্পিন বোলিং সকলকে বেশ বিস্মিত করে।
