২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, খুলনা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। মূলতঃ টেপ-টেনিস বলে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অন্তরঙ্গ বন্ধু ও পরবর্তীতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলীয় সঙ্গী ইমরান আলী ইনামের সাথে সিলেটভিত্তিক রানা মিয়ার ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন।
কয়েক বছরের মধ্যেই সিলেট বিভাগের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এবাদত চৌধুরী’র সাথে ফাস্ট বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। এক পর্যায়ে উক্ত তিনজন বিসিবি কর্তৃক ২০১৫-১৬ মৌসুমের ফাস্ট বোলিং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১০ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত সিলেট বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এক অঙ্কের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের ন্যায় বড় ধরনের আসরে প্রথম অংশ নেয়ার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে খেলেন। তবে, চার খেলায় মাত্র দুই উইকেট পেয়েছিলেন। কয়েক মাস পর ২০১৭-১৮ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ৩৪.৭০ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেন। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মে বিসিবি’র হাই পারফরম্যান্স দলের সদস্য হন। দ্রুতলয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।
আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাঁচটি অনানুষ্ঠানিক ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ১০ উইকেট পান। বড়দের দলে খেলার জন্যে ডাক পান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ হয়। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় প্রথমবারের মতো দশ উইকেট পান। এরফলে জাতীয় ক্রিকেট লীগে সিলেট দলের দুর্লভ জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।
২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। অক্টোবর, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ মিঠুনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। কোন ইনিংসেই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৯৩ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ঐ টেস্টে মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে তাঁর দল ২১৮ রানের ব্যবধানে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হয়।
২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে কে ভেরিনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/৪৯। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৯২ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। কেশব মহারাজের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২২০ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
একই সফরের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে আইসিসি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যাচ ফি’র ১৫% জরিমানার কবলে পড়েন। এছাড়াও, একটি নেতিবাচক পয়েন্ট লাভ করেন। পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের দ্বিতীয় দিন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৯৫তম ওভারে কাইল ভেরিনের আঘাতকৃত বলটি সোজা তাঁর হাতে চলে আসলে তিনি অযথা ও বিপজ্জ্বনক পন্থায় বলটি তাঁকে উদ্দেশ্য করে মারলে তাঁর ডান হাতের গ্লাভসে আঘাত করে। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩৩২ রানে পরাজিত হয় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
জুন, ২০২২ সালে দলের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের সুযোগ পান। অ্যান্টিগুয়ার নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ ওভার থেকে ৩/২৭ পান। তন্মধ্যে, তৃতীয় দিনে ১১ বলের ব্যবধানে ঐ উইকেটগুলো পান। তবে, চতুর্থ দিনেই তাঁর দল সাত উইকেটে পরাজিত হয়।
১৫ জুলাই, ২০২২ তারিখে সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে দুইটি চারদিনের ও তিনটি একদিনের খেলায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্যরূপে তাঁকে যুক্ত করা হয়।
২০২৩-২৪ মৌসুমে নাজমুল হোসেন শান্ত’র অধিনায়কত্বে নিজ দেশে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। এ সিরিজে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি তিনি। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ২২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ৩/৭২ ও ১/৪৬ লাভ করেন। তবে, ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়।
এরপর, ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রাম টেস্টে ১ ও ২ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ১/৭১ ও ২/৩৪ লাভ করেন। ঐ টেস্টেও স্বাগতিকরা ১৯২ রানে পরাস্ত হবার পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের মুখোমুখি হন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৯ ও ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
