|

কৌশল লোকুয়ারাচ্চি

২০ মে, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘লোকু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দিলরুয়ান পেরেরা’র ন্যায় তিনিও রুয়ান কালপেগের পরিচালনায় শ্রীলঙ্কান স্পিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব ও ওয়েয়াম্বা এবং বাংলাদেশী ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও কন্দুরাতা ম্যারুন্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৯৯ সালে ব্লুমফিল্ডের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেন। এরপর, সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবে চলে যান। প্রিমিয়ার লীগে দলটির পক্ষে ১৪ উইকেট পান।

২০০৩ থেকে ২০১২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ২১টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। এপ্রিল, ২০০৩ সালে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে শারজায় কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৫ বল মোকাবেলায় ৮ রান তুলে সুজি’র বলে বোল্ড হন। এরপর, বল হাতে নিয়ে ১/২২ লাভ করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ১২৯ রানে জয় তুলে নেয়।

এর অল্প কিছুদিন পর ২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। প্রভাত নিশাঙ্কা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিনি মন্দ খেলেননি। ০/৮৩ ও ২/৪৭ পান। ২৯ বল থেকে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। কিংবদন্তীতুল্য মুত্তিয়া মুরালিধরনকুমার ধর্মসেনা’র দাপটে তাঁকে নিরাশ হতে হয়। তাঁদের সাফল্যে প্রায়শঃই ম্রিয়মান হয়ে পড়তেন। তাঁকে মাঠের বাইরে অবসর সময় কাটাতে হতো। দলে স্থান নিশ্চিত করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

২০০৩ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত হন। তবে, খুব শীঘ্রই দলে ফিরে আসেন। এরপর থেকে দলে আসা-যাবার পালায় থাকতেন। দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় সুবিধে করতে না পারায় ক্ষুদ্রতর সংস্করণের দিকেই অধিক খেলেন। ২০০৭ সালে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নিজ দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার টি২০আই দলে তাঁকে রাখা হয়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শেন ওয়ার্নের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ২৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ খেলতে থাকেন। আটবার পাঁচ-উইকেটসহ ৩৭০ উইকেট দখল করেন।

Similar Posts

  • | |

    এডগার মেইন

    ২ জুলাই, ১৮৮২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার জেমসটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জন্ম সনদে তিনি ‘রিচার্ড এডগার মেইন’ নামে পরিচিতি পান। দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন প্রকৃতির ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কাট ও ড্রাইভের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। তবে,…

  • |

    রমেশ সাক্সেনা

    ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। লঘুচরণের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পিনারদের বিপক্ষে দারুণ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর স্ট্রোকপ্লের মারে দর্শকদের নির্মল বিনোদন জোগাতেন। সময়ে সময়ে দলের প্রয়োজনে বড়…

  • |

    শাহাদাত হোসেন, ১৯৮৬

    ৭ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রাজিব’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব…

  • | | |

    ডিন জোন্স

    ২৪ মার্চ, ১৯৬১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কোবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস কিংবা অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ার মাউন্ট ওয়াভার্লি হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ৬ ফুট (১.৮২ মিটার) উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম…

  • |

    ইজাজ ফাকিহ

    ১৪ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক ও…

  • |

    বমন কুমার

    ২২ জুন, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার ছিলেন। ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। ছোটখাটো ও শীর্ণকায় গড়ন নিয়ে ঘরোয়া আসরে তারকা ক্রিকেটার ছিলেন।…