১০ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কার্টলি অ্যামব্রোস ও কোর্টনি ওয়ালশের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বাপেক্ষা চিত্তাকর্ষক খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন। অষ্টাদশ জন্মদিন উদযাপনের পর ২০২০ সালে ইয়ান বিশপ মন্তব্য করেন যে, ‘ছেলেটি এখন বড়দের দলে খেলার উপযোগী।’ ৮৫ থেকে ৮৮ মাইল বেগে আউট-সুইং বোলিং করেন। এ পর্যায়ে বলে নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জাফনা কিংস ও ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০২০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ওয়েস্টে ইন্ডিজের পক্ষে খেলেন। ৬ খেলা থেকে ১০ উইকেট দখল করে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে নজর কাড়েন। এছাড়াও, ২০২০ সালের সিপিএল আসরে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সাথে যুক্ত হন। নিজের প্রথম ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগে ওভারপ্রতি ১১ রান খরচ করেছিলেন।
১১ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে নেলসনে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড ‘এ’ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। কয়েক মাসের মধ্যে সুপার৫০ কাপ প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পক্ষে লিস্ট-এ খেলায় প্রথম অংশ নেন। পেশাদারী পর্যায়ে দশের অধিক খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এ সময়ে তিনি একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
২০২১ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২১ সালে নিজ দেশে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস তাঁকে ক্যাপ প্রদান করেন। আঘাতপ্রাপ্ত শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের স্থলাভিষিক্ত হন। খেলায় তাঁর দল শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হলেও তিনি ৩/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬৩ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিং নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪০ ও ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে ৫/৫৫ পেয়েছিলেন। এরফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টেস্ট পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। পাশাপাশি, আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের গড়া ৭১ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। ঐ খেলায় তাঁর দল নাটকীয়ভাবে এক উইকেটে জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। কেমার রোচ জয়সূচক রান তুলেন ও তিনি উইকেটের অপর প্রান্তে অবস্থান করেছিলেন। ঐ খেলায় আট উইকেট পান ও প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর থেকে দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হন। চার টেস্ট শেষে ২১.৩১ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেন। একই বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে জাফনা কিংসের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২০২৪ সালে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জেমস অ্যান্ডারসনের বিদায়ী টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ৪/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সফরকারীরা গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে ইনিংস ও ১১৪ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৫ ও ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮* ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, তাইজুল ইসলামের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১০১ রানে জয় পেয়ে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। এ সিরিজে ২৮ রান ও ১০ উইকেট দখল করে তাসকিন আহমেদের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/২৭ ও ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২২ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১০০ ও ০/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
