১০ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। কুইন্স কলেজ ও সেন্ট বেডেস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বেশ উচ্চ মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের পক্ষে খেলেছেন। ২৩ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ব্রিজটাউনে বার্বাডোস বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেবার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৪-১৫ মৌসুমে স্মরণীয় মৌসুম অতিবাহিত করেন। চতুর্থ সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। নয় খেলা থেকে ৬২৮ রান তুলেন। কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত রিজিওনাল ফোর-ডে কম্পিটিশনে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষদিনে দ্বি-শতক হাঁকান। এর পরপরই মাত্র ১৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এপ্রিল, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১৫ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৫ সালে নিজ দেশে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২১ বছর বয়সে ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ৫ ও ৯ রান তুলতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ সমসংখ্যক রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়।
প্রথম ১০ টেস্ট থেকে মাত্র ১৬ গড়ে রান পেয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে ওডিআইয়ে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করছেন। ইতোমধ্যে, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে শতক হাঁকিয়েছেন।
২০১৬ সালে সাদা-বলের ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে ত্রি-দেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেন। নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শতক হাঁকান। ২০১৭ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে নিজেকে রেকর্ড বহিতে ঠাঁই করে নেন। ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো তাঁর দল ইংল্যান্ডকে পরাজিত করতে সমর্থ হয় ও ১২৭ বছর পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লিডসের হেডিংলিতে উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৩৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। নীল ওয়াগনারের অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
টেস্ট ও ওডিআইয়ে দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করেন। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে জন ক্যাম্পবেলকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬৫ রানের সর্বোচ্চ রান তুলেন। একই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম ২০০০ রান সংগ্রহ করেন। এ অর্জনের জন্যে তিনি ৪৭ ইনিংস খেলেছিলেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
অপর ভ্রাতা কাইল হোপ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
