২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে ডোমিনিকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ২০১২ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলেছেন। একই বছর উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। তবে, ছয় বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২২টি খেলায় অংশগ্রহণ করলেও ব্যাট হাতে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, সেন্ট লুসিয়া জুকস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৫ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন। ৯ মার্চ, ২০১২ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস বনাম উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
গ্লোবাল টি-২০ প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। সেখানে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ সিপিএলে সেন্ট লুকাই স্টার্সের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হবার সুযোগ এনে দেয়। তবে, স্টার্সের পক্ষে তেমন নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের উভয়টিতে অংশ নেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে অ্যাডিলেডের কারেন রোল্টন ওভালে শামার যোসেফ ও জাস্টিন গ্রিভসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৭১ ও ২৯ রান সংগ্রহ করে দলের ৮ রানের নাটকীয় বিজয়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনে জশুয়া ডা সিলভা’র (৭৯) সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নড়বড়ে ভিত্তিকে মজবুতকরণে অগ্রসর হন। ১১টি দিবা-রাত্রির টেস্টে এটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল। পুরো সিরিজে এটিই প্রথম শতরানের জুটি ছিল। এরফলে দীর্ঘ ২৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বহুল প্রত্যাশিত প্রথম জয়ের সন্ধান পায় ক্যারিবীয় দল। ঐ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। অপ্রত্যাশিত বিজয়ে ব্রায়ান লারা ও কার্ল হুপার – উভয়েই আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। ঐ সিরিজে ২৮.৭৫ গড়ে ১১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন।
২০২৪ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ২৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সাজিদ খানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সাজিদ খানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২৩* ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১২ ও ২/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
