|

ব্রেন্ডন কিং

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনের জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা এবং সেন্ট কিটস ও নেভিসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুদা ফ্যালকন্স, বার্বাডোস রয়্যালস, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, জ্যামাইকা তল্লাজ, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, আবুধাবি নাইট রাইডার্স, রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, ডারবান্স সুপার জায়ান্টস, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, নর্দার্ন ওয়ারিয়র্স, জ্যামাইকা নির্বাচিত একাদশ, জ্যামাইকা অনূর্ধ্ব-১৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘বি’, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি একাদশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সভাপতি একাদশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বনাম জ্যামাইকার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

খাঁটিমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে জ্যামাইকার পক্ষে খেলা শুরু করেন। এরপর, সিপিএলে শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়ের দ্বার উন্মোচন করেন। এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাদা-বলের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রিত হন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে জ্যামাইকার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলা শুরু করলেও মূলতঃ ২০১৮-১৯ মৌসুমে সফলতার সন্ধান পান। এ সময়ে তিনি সাত খেলা থেকে ৬৩০ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘এ’ দলের মাঝারিসারিতে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। এছাড়াও, ২০১৭ সালের সিপিএল আসরে সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টসের পক্ষে প্রথমবারের মতো যুক্ত হন। তবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি। তবে, ২০১৯ সালে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সে চলে আসার পর কোচ যোহান বোথা’র নজরে পড়েন। তাঁর সক্ষমতা ও উদ্যমী শক্তির কল্যাণে শীর্ষসারিতে চলে যান। ১২ খেলায় অংশ নিয়ে ১৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৪৯৬ রান সংগ্রহ করেন। এ সংগ্রহটি ঐ বছরের প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক ছিল। তন্মধ্যে, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ইনিংসটি সিপিএলের ইতিহাসে তৎকালীন সর্বোচ্চ ছিল।

স্বভাবতঃই জাতীয় দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। দলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও সীমিত-ওভারের খেলায় আফগানিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার মানে অবনতি ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের শেষদিকে দল থেকে বাদ পড়েন। এক বছর পর তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। টি২০আইয়ে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৮ ও ৯১ রানের ইনিংস খেলে ওডিআই সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন।

২০১৯ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১১ জুন, ২০২৫ তারিখে কেভলন অ্যান্ডারসন ও যোহান লেনের সাথে তাঁকেও প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের সদস্যরূপে রাখা হয়। ২০২৫ সালে নিজ দেশে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ২৬ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জশ হ্যাজলউডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৫৯ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

অবশ্য, টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৩ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জ্যাকব ডাফি’র শিকারে পরিণত হন। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • | |

    গ্যারি উইলসন

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানডোনাল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, আইরিশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও কেভিন ও’ব্রায়ানের ন্যায় এমসিসি’র পরিচালনায় কাউন্টি ক্রিকেটে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার উদ্দেশ্যে ‘এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্স’…

  • | |

    হেনরি ওলোঙ্গা

    ৩ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে জাম্বিয়ার লুসাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেনীয় পিতা ও জাম্বীয় মাতার সন্তান। কিশোর অবস্থাতেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে জড়িয়ে পড়েন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও…

  • |

    খুররম মঞ্জুর

    ১০ জুন, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ব্লুজ, পোর্ট কাসিম অথরিটি ও বাংলাদেশী ক্রিকেটে রাজশাহী…

  • |

    জিম কেলি

    ১০ মে, ১৮৬৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার পোর্ট মেলবোর্ন এলাকার কাছাকাছি স্যান্ডব্রিজে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রায় এক দশক অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বর্ণাঢ্যময় খেলা উপহার দিয়েছেন। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে বল গ্লাভসবন্দীসহ ব্যাট হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বাক্ষর…

  • |

    ক্ল্যারি গ্রিমেট

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডুনেডিনের ক্যাভারশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রিচার্ড জেমস গ্রিমেট ও মেরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি ওয়েলিংটনে চলে যায়। সেখানকার মাউন্ট কুক বয়েজ স্কুলে…

  • | |

    হ্যারি জাপ

    ১৯ নভেম্বর, ১৮৪১ তারিখে সারের ডর্কিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মূলতঃ রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। খুব দ্রুত ক্রিকেটে সহজাত দক্ষতার বিকাশে তৎপর হন। ১৮৬১ সালে সারে কোল্টসের পক্ষে খেলেন। ১৮৬২ সালেও তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি।…