| | | |

কৃষ শ্রীকান্ত

২১ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ভারত ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিদ্যুৎ প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষালাভ করেন। চেন্নাইভিত্তিক গুইন্ডির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। সহজাত প্রকৃতির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও অতিদ্রুততার সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে খুব দ্রুত দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। ১৯৭৯ সালে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, কিরণ মোরে ও গোপাল শর্মা’র সাথে একত্রে খেলেন। ১৯৮৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ইয়ং ইন্ডিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ুর প্রথম সেরা তারকা খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ক্ষুরধার উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দর্শকদের প্রিয়পাত্র ছিলেন। বীরেন্দ্র শেহবাগের আগমনের অনেক পূর্বেই ভারতের সহজাত আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিপক্ষের কয়েক ওভারকে তছনছ করে দিতেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন অনেকাংশেই বিনোদনধর্মী, সৃষ্টিশীলতা ও বিধ্বংসী প্রকৃতির ছিল। সর্বাপেক্ষা ভীতিপ্রদ বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দিয়ে পুল, হুক ও ড্রাইভের ফুলঝুড়ি ছোঁটাতেন। আবার, শীর্ষসারিতে ভাঙ্গনের প্রধান কারণ হিসেবে তাঁকেই চিহ্নিত করা হতো। অনেক সময়ই সাধারণমানের বোলিংয়ে বিদেয় নিতেন। দুইবার ভারতের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা বিজয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৯২ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৪৩ টেস্ট ও ১৪৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। আহমেদাবাদে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই সফরের ২৭ নভেম্বর, ১৯৮১ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে অফ-সাইডে বলকে মেরেছিলেন। জন এম্বুরি’র বলে ১৩ রানে রান-আউটের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, কপিল দেবের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ১৩৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ধারাবাহিকতার অভাবে প্রায়শঃই দলের বাইরে চলে যেতেন। তবে, ’৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে কিছুটা শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফলশ্রুতিতে, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দলের নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯৮৩ সালের প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। চূড়ান্ত খেলায় তাঁর সংগৃহীত ৩৮ রানের কল্যাণে শীর্ষসারির ভিত মজবুত হয় ও দলের ঐতিহাসিক শিরোপা বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করে। উভয় দলের মাঝে তাঁর এ রান সর্বোচ্চ ছিল ও তারকা বনে যান। তবে, মহিন্দর অমরনাথের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য, বলবিন্দর সিং সাঁধু’র যাদুকরী বোলিং ও কপিল দেবের দূর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দীর কারণে তাঁর সাফল্য ম্লান হয়ে পড়ে। তাসত্ত্বেও তাঁর সংগৃহীত রান অমূল্যরূপে বিবেচিত হয় ও ৪৩ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে পরাভূত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা লাভ করে ভারত দল। এছাড়াও, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় ২৮ বছর পর ২০১১ সালের ভারত দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্বে থেকে আরও একবার শিরোপা বিজয়ী দলের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। এছাড়াও, ১৯৮৫ সালের বেনসন এন্ড হেজেস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

১৯৮৪ সালে পাকিস্তান গমনার্থে গুলাম পার্কার আঘাতের কবলে পড়লে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হনুমন্ত সিংকে খেলোয়াড় নির্বাচন করার আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তকে ব্যাগ নিয়ে বোম্বে চলে যাবার জন্যে বলেন। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে সুনীল গাভাস্কারের পুরোপুরি শান্ত ভূমিকা পালন বেশ ভারসাম্য বজায় রাখতো। এ দু’জন বেশকিছু স্মরণীয় জুটি গড়েছিলেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। গোটা সিরিজে অপূর্ব ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৯টি চার ও একটি ছক্কার মারে ১১৭ বলে ১১৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংসহ সুনীল গাভাস্কার ও মহিন্দার অমরনাথের ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। ঐ টেস্টে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ ২৯১ রান সংগ্রহ করে দলনায়ক কপিল দেবের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। একমাত্র ইনিংসে ১২৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ইমরান খানের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সেরা টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। ক্রমাগত ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১ ও ৫৮*, ৯৪ ও ০ এবং ৬৯ ও ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ছয়টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর অফ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বিশেষতঃ ওডিআইয়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। তিন ওডিআই ব্যবধানে দুইবার পাঁচ-উইকেট পান। এরফলে, প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওডিআইয়ে দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। অপ্রত্যাশিতভাবে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখের পূর্ব পর্যন্ত ১০৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে মাত্র ১৩ খেলায় বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ঐদিন তিনি প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। বিশাখাপত্তনমে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে এ সাফল্য লাভ করেন। ৫/২৭ নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৯৬ রানে গুটিয়ে দেন। এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ৭০ রান তুলেন। কয়েকটি ওডিআই পর দ্বিতীয়বারের মতো আবারও পাঁচ-উইকেট পান। ৫/৩২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে ২২২ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ভারত দলকে নিয়ে যান।

অতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলারদের রুখে দিয়ে দুইটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলের সহঃ অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ইয়ান বিশপের বলে তাঁর হাত ভেঙ্গে যায়। বিখ্যাত ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকরের প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় দলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তান গমনার্থে ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিই ড্রয়ে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে তাঁর ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র ফুঁটে উঠে ও দুই বছর তাঁকে দলের বাইরে থাকতে হয়। ওয়াসিম আকরামের তোপে পড়ে ১৩.৮৫ গড়ে মাত্র ৯৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। এ সময়ে তাঁর বয়স ত্রিশোর্ধ্ব ছিল। তবে, পরিপক্ক হবার কোন চিত্র তাঁর মাঝে ছিল না। ১৯৯০-এর দশকের শুরুরদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরেও একই ফলাফল করেন। তাসত্ত্বেও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু, ১৯৯৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে রাখা না হলে ৩৩ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৪ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২/৬৯ ও ২/১২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০০ রানে জয় পেয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের ৭২ ইনিংস থেকে মাত্র দুই সহস্রাধিক রান তুলেন ও ২৯.৮৮ গড়ে রান পেয়েছেন। তবে, সংখ্যার দিক দিয়ে বিচার করলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ফুঁটে উঠবে না। কিন্তু, ব্যাটিংয়ের ধরনের কারণে অগণিত সমর্থকের মনোরঞ্জন করে গেছেন। তাঁর টেস্ট রেকর্ড আশাপ্রদ হলেও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কারণে সমৃদ্ধ হয়নি। টেস্টের তুলনায় ওডিআইয়ে বেশ সফল ছিলেন ও সীমিত-ওভারের উপযোগী ছিলেন।

অবসর গ্রহণকালীন অন্য যে-কোন ভারতীয় ক্রিকেটারের তুলনায় ওডিআইয়ে সর্বাধিকসংখ্যক ৪০৯১ রান ও রবি শাস্ত্রী’র সাথে যৌথভাবে সর্বাধিক চারটি শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে শচীন তেন্ডুলকরের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত টিকেছিল। ৭১ স্ট্রাইক রেট নিয়ে সর্বকালের তালিকায় ২৭তম অবস্থানে ছিলেন।

ওডিআইয়ে চার সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ বল মোকাবেলায় ১০২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিতে সহায়তা করেছিলেন। তবে, পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১০৩ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওডিআইয়ে অর্ধ-শতকের পাশাপাশি পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান। ১৫ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।

অবসর গ্রহণের পর বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্লেষকের দায়িত্বে ছিলেন। টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পরবর্তীতে ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িয়ে পড়েন। ভারত ‘এ’ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে চেন্নাই সুপার কিংসের দূত হিসেবে মনোনীত হন। ঐ বছরের শেষদিকে দিলীপ বেঙ্গসরকারের স্থলাভিষিক্ত হন ও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর প্রথম বেতনভূক সভাপতি হিসেবে নিযুক্তি পান। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ ছিল। ২০১০ সালে ক্যারিয়ারস্ট্রোকস নামীয় ওয়েবসাইট চালু করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে বিসিসিআই কর্তৃক আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।

পেশায় প্রকৌশলী। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। শ্রীকলা নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন। এস অনিরুদ্ধ ও আদিত্য শ্রীকান্ত নামীয় দুই সন্তান তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আদিত্য অংশ নেয়। অপরদিকে, এস অনিরুদ্ধ ঘরোয়া ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর পক্ষে খেলেছে ও কিছু সময় ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করাসহ আইপিএলের ২০০৮ সালের আসরে চেন্নাই সুপার কিংস ও পরবর্তীতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। তাঁর শ্যালক ভরত কুমার তামিলনাড়ুর পক্ষে ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন।

Similar Posts

  • |

    কৌশল লোকুয়ারাচ্চি

    ২০ মে, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লোকু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। সেন্ট পিটার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দিলরুয়ান পেরেরা’র ন্যায় তিনিও রুয়ান কালপেগের পরিচালনায় শ্রীলঙ্কান স্পিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে…

  • | |

    ডেভন ম্যালকম

    ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতা আলবার্ট পরিবারের অর্থ যোগান দিতে ইংল্যান্ডে কাজ করতেন। পাঁচ বছর বয়স থাকাকালীন মাতা ব্রেন্ডালি মারা যান। জ্যামাইকীয় শহর সেন্ট এলিজাবেথে দিদির কাছে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন।…

  • |

    বানি বাটলার

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে ত্রিনিদাদের উডব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর…

  • |

    জন ট্রাইকোস

    ১৭ মে, ১৯৪৭ তারিখে মিশরের জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিখুঁত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। পিতা-মাতা গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন ও ১৯৪৮ সালে…

  • |

    সিকান্দার রাজা

    ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রচলিত ধাঁচে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি। অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের স্বাভাবিক অংশগ্রহণের ন্যায় তাঁর উত্থান ঘটেনি। শৈশবে খেলার প্রতি…

  • |

    ইব্রাহীম জাদরান

    ১২ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে খোস্তে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতে পারেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান ও স্ট্রোকমেকার্স হিসেবে আঁটোসাটো কৌশল গ্রহণপূর্বক ফুরফুরে মেজাজে খেলায় অগ্রসর হন। বৃহৎ আসরের ক্রিকেটে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট হাতে ক্রিজ…