১ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে হোবার্টের স্নাগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১.৯৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী বিউ ওয়েবস্টার কিংস্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। প্রায় দুই মিটার উচ্চতা নিয়ে বিউ ওয়েবস্টার তাসমানিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ছোট্ট শহর স্নাগে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। এক দশক প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেললেও তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে তাঁর উত্থান ঘটে। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাম্পটন উল্ভস, হোবার্ট হারিকেন্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, মেলবোর্ন স্টার্স, তাসমানিয়ার অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও ২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন।
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত তাসমানিয়া বনাম কুইন্সল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ডানহাতে প্রচণ্ড শক্তিতে মারকুটে ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাসমানিয়ার পক্ষে আট নম্বর পর্যন্ত যে-কোন অবস্থানে ব্যাটিং করে থাকেন। তবে, চার ও আট নম্বর অবস্থানে সবগুলো শতক হাঁকিয়েছেন। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে ছয় নম্বর অবস্থানে অসাধারণ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বোলার হিসেবে দীর্ঘদিন দূর্দান্ত খণ্ডকালীন অফ-স্পিনারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, কোভিড বৈশ্বিক অতিমারীর পর তাসমানিয়ার সাবেক কোচ অ্যাডাম গ্রিফিথের সহায়তা নিয়ে মিডিয়াম-পেস বোলারে পরিণত হন। বোলিং পরিবর্তন করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ অল-রাউন্ডারে পরিণত হন। নতুন বলে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে সেরা সময় অতিবাহিত করেন। শেফিল্ড শীল্ডে ৫৮.৬২ গড়ে রান সংগ্রহ করে তালিকায় শীর্ষে আরোহণ করেন। এছাড়াও, ২৯.৩০ গড়ে ৩০ উইকেট লাভ করে শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় তাসমানিয়াকে নিয়ে যান। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে শীল্ডে স্যার গারফিল্ড সোবার্স নয় শতাধিক রানসহ ৩০-এর অধিক উইকেট লাভের পর তাঁর এ সাফল্য দ্বিতীয় স্থানে ছিল।
দূর্দান্ত সাফল্যের কল্যাণে ২০২৪ সালের শীতকালে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুযোগ এনে দেয়। এর পূর্বে ২০২৩ সালে এসেক্সের পক্ষে ওয়ান-ডে কাপ খেলেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরুতে তাসমানিয়ার পক্ষে অসাধারণ সূচনা করলে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। এর পূর্বে অবশ্য ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন। ভারত এ দলের বিপক্ষে মূল্যবান রান সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহ করার সুবাদে জানুয়ারি, ২০২৫ সালে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২৫ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট খেলছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে যশপ্রীত বুমরা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩১ বছর বয়সে ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৭ ও ৩৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্কট বোল্যান্ডের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, উসমান খাজা’র অসাধারণ দ্বি-শতরানের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৪২ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে ৩১ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ ও ২/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিতে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১১ জুন, ২০২৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত অপর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭২ ও ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, এইডেন মার্করামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২০ ও ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
