|

নূর আলী জাদরান

১৭ জুলাই, ১৯৮৮ তারিখে খোস্তে জন্মগ্রহণকারী আফগান ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্রদ্বয় মুজিব উর রহমান ও ইব্রাহীম জাদরান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছে।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মিস আইনাক রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, টেক্সাস চার্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। প্রিয় খেলোয়াড়ের তালিকায় রিকি পন্টিংকে শীর্ষে রেখেছিলেন। ২০০৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সদস্যরূপে প্রথম অংশ নেন। এরপর, ২০০৭ সালে এসিসি টি২০ কাপে ওমানের বিপক্ষে টি২০ খেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করেন। ১৬ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে মুতারেতে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে একদাশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে আফগানিস্তানের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, ৫১টি ওডিআই ও ২৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে বেনোনিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২৮ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ৮৯ রানের জয় এনে দেন। অল্প কিছুদিন পর টি২০আইয়ে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক ক্রিকেটার হিসেবে নিজের উপযোগীতা তুলে ধরেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে কানাডার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন। এ খেলাটি আফগানিস্তানের দ্বিতীয় খেলা ছিল। এছাড়াও, ২০১০ সালের টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ভারতের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে পুণরায় ছন্দ ফিরে পান। ফলশ্রুতিতে, এশিয়ান গেমস চলাকালীন তাঁকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। স্মরণীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে দলকে চূড়ান্ত খেলায় ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের উত্তরণে সহায়তা করেন।

২০২৩-২৪ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোয় (এসএসসি) অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ সেলিম, নাভিদ জাদরানজিয়া-উর-রেহমানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩১ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। তবে, প্রভাত জয়সুরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।

ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সালে সফরকারী আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে টলারেন্স ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে দুই দলের মধ্যকার সর্বনিম্ন ৭৪৭ রানের খেলায় তিনি ৭ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ৬ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

৭ মার্চ, ২০২৪ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • |

    এনজাবুলো এনকুবে

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়ন হলেও বৃহৎ হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। কার্যকর অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মাখায়া এনটিনিকে ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। আগ্রাসী ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ…

  • | | |

    সিকে নায়ড়ু

    ৩১ অক্টোবর, ১৮৯৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯১৬-১৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • | |

    ডোনাল্ড নাইট

    ১২ মে, ১৮৯৪ তারিখে সারের সাটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যালভার্নে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় জীবনেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সময়কালে পাঁচ বছর বিদ্যালয় একাদশে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এ…

  • |

    হামিশ মার্শাল

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বল্পসংখ্যক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অপর যমজ ভ্রাতা জেমস…

  • |

    ইয়ান সিনক্লেয়ার

    ১ জুন, ১৯৩৩ তারিখে ক্যান্টারবারির র‍্যাঙ্গিওরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতি অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিন মৌসুম জুড়ে মাত্র ১৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ…

  • | | |

    জন আর্নল্ড

    ৩০ নভেম্বর, ১৯০৭ তারিখে অক্সফোর্ডের কাউলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯২৯ থেকে ১৯৫০ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…