৩ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে মহারাষ্ট্রের দম্বিলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিদেশ সফরে কিংবা জাতীয় পর্যায়ে ব্যস্ত তারকা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে দলের অতন্দ্র্য প্রহরীরূপে দায়িত্ব পালন করেছেন। বোম্বে দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত একাধারে খেলেন। প্রায়শঃই দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ভারতীয় ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে মাত্র তিনবার ৩০ ঊর্ধ্ব গড়ে রান পেলেও ঐ সময়ের নিষ্প্রাণ উইকেটে বেশ উঁচু রান হিসেবে বিবেচিত ছিল। পরবর্তী বছরগুলোয় অবশ্য তরুণ দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হন। তবে, নতুন সহস্রাব্দে এসে তাঁর অবদানের কথা কোনক্রমেই অস্বীকার করা যাবে না।
অনেকটা বিস্ময়করভাবেই ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতা নিয়ে বামহাতি স্পিনারে পরিণত হয়েছিলেন। বল হাতে নিয়ে তেমন সফলতা পাননি। কিন্তু, নিখুঁততার সাথে বোলিং করেছেন, ভারসাম্য বজায় রেখে বৈচিত্র্যমূখী বোলিংয়ে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। বলকে শূন্যে ভাসমান অবস্থায় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখেননি। সাধারণমানের বোলিং করে ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চালাতেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৬ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ২ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে প্রথম বল থেকে উইকেট লাভের সবিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। মারভান আতাপাত্তুকে বোল্ড করে এ গৌরবের অধিকারী হন। অভিষেক টেস্টে ৭০ ওভার খরচায় ৫ রানের জন্যে দুইশত রান খরচের ন্যায় অগৌরবজনক রেকর্ড থেকে দূরে থাকেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের এক পর্যায়ে সনথ জয়সুরিয়া ও রোশন মহানামা ৫৭৬ রানের জুটি গড়েন ও শ্রীলঙ্কা দল ৯৫২/৬ তুলে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হয়।
তবে, দ্বিতীয় ও সর্বশেষ টেস্ট উইকেট লাভের জন্যে ১০০ ওভার খরচ করতে হয় ও নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে পান। তিন টেস্ট পরই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ২০০০-০১ মৌসুমে চেন্নাইয়ে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ মার্চ, ২০০১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে মাত্র এক উইকেট পেলেও প্রথম ইনিংসে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। হরভজন সিংয়ের অনবদ্য বোলিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল দুই উইকেটে জয় পায় ও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
ওডিআইয়ে সীমিত সুযোগ পেলেও দারুণ খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে হায়দ্রাবাদে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। ৩/২৭ লাভ করলেও ঐ খেলায় ভারত দল পাঁচ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও মুম্বইয়ের চাতুর্য্যময় বোলার হিসেবে খেলা অব্যাহত রাখেন ও ব্যাপকভাবে সফল হন। এক পর্যায়ে দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করেন। অতঃপর, এক দশকের অধিক সময় খেলে ২০১০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২৪.৮৯ গড়ে ৩৫৭ উইকেট দখল করেন। অপরদিকে টেস্টে ২ উইকেট পান ১৬৬ গড়ে। এরপর সফলতম উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন।
