| |

পোচিয়া কৃষ্ণমূর্তি

১২ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭০-এর দশকে হায়দ্রাবাদ দলের উইকেট-রক্ষণে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ভারতের প্রথম সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। তবে, ফারুক ইঞ্জিনিয়ারসৈয়দ কিরমানি’র আধিপত্যে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।

পারিবারিক গবাদিপশু ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম। ১৯ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ইন্ডিয়ান স্টারলেটসের সদস্যরূপে খেলেন। সেলিম দুরানি’র কাছ থেকে উইকেট-রক্ষণের বিষয়ে বেশ প্রশংসা কুড়ান। হায়দ্রাবাদ ব্লুজের সদস্যরূপে সিলন গমন করেন। মাদ্রাজের বিপক্ষে তারকাসমৃদ্ধ হায়দ্রাবাদ দলের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম খেলেন। ঐ মৌসুমে অতিথি দল অন্ধ্রের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতরান করেন। ৫১ রান তুলেছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে কেনিয়া জয়ন্তীলালের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৯০ রানের জুটি গড়েন। নিজে করেন ৪৯ রান। পরের মৌসুমে একই প্রতিযোগিতায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সদস্যরূপে ব্যক্তিগত সেরা ৮২ রান তুলেছিলেন।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ‘পোচিয়া’ নামেই সচরাচর তিনি পরিচিতি লাভ করেন। অধিকাংশ ভারতীয় উইকেট-রক্ষকদের তুলনায় দীর্ঘদেহী ছিলেন। ভারতে ‘স্পিনের স্বর্ণযুগে’ স্পিনারদের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি দ্রুতগামী বোলারদের বল মোকাবেলায় উপযোগী ছিলেন।

ফারুক ইঞ্জিনিয়ার ও সৈয়দ কিরমানি’র সময়কালে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ফলশ্রুতিতে তাঁকে সর্বদাই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হতো। এছাড়াও, ফারুক ইঞ্জিনিয়ারের ব্যাটিংয়ের পাশে ম্রিয়মান ছিলেন। পাশাপাশি ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ইএএস প্রসন্নভাগবত চন্দ্রশেখরের ন্যায় তারকা স্পিনারদের বল মোকাবেলায় হিমশিম খেতেন।

বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রত্যেক অবস্থানেই তাঁকে ব্যাটিং করতে দেখা যায়। ১০৮ খেলা থেকে আটটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৪.৯৮ গড়ে ১৫৫৮ রান তুলেছেন। এছাড়াও, ২১৮টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন। তন্মধ্যে, ৬৮টি স্ট্যাম্পিং ছিল। ৩৯টি স্ট্যাম্পিং করে হায়দ্রাবাদের পক্ষে রেকর্ড গড়েছেন। ১১৬টি ডিসমিসাল করে কেবলমাত্র ইব্রাহিম খলিল ও যোগরাজ সিংয়ের পরবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। তিনটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৮.৩০ গড়ে ২৮৩ রান তুলেন। পাশাপাশি ১১ ক্যাচ ও ৭ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন তিনি।

১৯৭১ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ফারুক ইঞ্জিনিয়ারের অনুপস্থিতিতে রুসি জিজিভয়ের সাথে তাঁকেও দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১০ রান সংগ্রহের পাশাপাশি দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। কেনিয়া জয়ন্তীলালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবগুলো টেস্টেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে পরিণত হয়। ৫.৫০ গড়ে ৩৩ রান তুলেন এবং ৭ ক্যাচ ও ১টি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন তিনি।

একই সফরের ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২০ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমের মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টে হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাদশের নেতৃত্বে ছিলেন। এক পর্যায়ে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় চাকুরী করতেন। হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দল নির্বাচক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৫১ বছর ২০০ দিন বয়সে ২৮ জানুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts