|

বমন কুমার

২২ জুন, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার ছিলেন। ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। ছোটখাটো ও শীর্ণকায় গড়ন নিয়ে ঘরোয়া আসরে তারকা ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন ও নিয়মিতভাবে উইকেট পেতেন। ধ্রুপদী ভঙ্গীমায় মুষ্টিবদ্ধ হাতে স্বল্প দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০০ উইকেট পান। চার বছর পর ৪০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ১৮ গড়ে ৪১৮ উইকেট পান ও সেরাদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছেন। মাদ্রাজের পক্ষে শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের সাথে দূর্দান্ত স্পিন জুটি গড়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯.৮৮ গড়ে ৫৯৯ উইকেট দখল করেছেন।

মাদ্রাজের পক্ষে তাঁকে খেলতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তবে, ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৫/১০০ লাভের পর অধিনায়ক বালু আলাগানান তাঁকে দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা দেন। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় চাকুরী লাভের পর আরও ভালো খেলতে থাকেন। পরের মৌসুমে ১৩ গড়ে ৪০ উইকেট দখল করেন। রঞ্জী ট্রফিতে উপর্যুপরী উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর ঘটান। অতঃপর ১৯৬০-৬১ মৌসুমে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারত দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন।

১৯৬১ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে পঙ্গাল টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে দিল্লির কোটলায় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫/৬৪ পান। তন্মধ্যে, ইমতিয়াজ আহমেদকে গুগলিতে পরাস্ত করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরফলে, ১৯৩২ সালের পর প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন। উজ্জ্বীবিত অবস্থায় ওয়েলিংটন সিনেমায় যান ও সেখানে দিলীপ কুমার অভিনীত ‘দাগ’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পূর্বে তাঁর বোলিংয়ের অংশবিশেষ দেখানো হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৬৮ পান। ফলশ্রুতিতে, প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে ৭ উইকেট দখল করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে শেষ হয়।

এরপর, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ নভেম্বর, ১৯৬১ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টেও তাঁকে রাখা হয়। কিন্তু, এ সময়ে তিনি আঘাতের কবলে পড়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, প্রতিপক্ষের লেগ-স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দূর্বলতার কারণে তাঁকে অনেকাংশে জোরপূর্বক খেলতে বাধ্য করা হয়। প্রথম ইনিংসে তিনি কোন উইকেট পাননি। নরি কন্ট্রাক্টর কানপুর টেস্ট থেকে দূরে রাখেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকে কোন ওভার বোলিং করাননি। ঐ খেলায় ৭০ রান খরচ করেও কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। বিস্ময়করভাবে তাঁকে আর কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে ২৯ গড়ে ৭ উইকেট দখল করেন।

দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে বাদ দিয়ে অল-রাউন্ডার কৃপাল সিং ও পরবর্তীতে ভাগবত চন্দ্রশেখরকে দলে রাখেন। তাসত্ত্বেও, ষাটের দশক থেকে সত্তুরের দশকের অধিকাংশ সময় জুড়ে দারুণ বোলার ছিলেন। নিজের স্বর্ণালী সময়ে দেশের সেরা বোলার হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছিলেন। স্পিনের উপর প্রভূত্ব ঘটিয়ে নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। দৃশ্যতঃ তাঁকে সুভাষ গুপ্তে’র যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিলেন।

যদি তিনি আরও টেস্ট খেলার সুযোগ পেতেন তাহলে হয়তোবা ভারতীয় লেগ-স্পিন বোলারদের সফল ত্রয়ী তারকা খেলোয়াড় সুভাষ গুপ্তে, ভাগবত চন্দ্রশেখর ও অনিল কুম্বলে’র সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারতেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ভগবত চন্দ্রশেখরের খেলোয়াড়ী জীবন বহমান থাকলেও তিনি মাত্র দুই টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

৪১ বছর বয়স অবধি প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। এ পর্যায়ে নিজ নামের পার্শ্বে কিছু দারুণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির সেমি-ফাইনালে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩/১৬ লাভ করার পর শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের সাথে ১২১ রানের জুটি গড়েন। চূড়ান্ত খেলায় বোম্বের বিপক্ষে ৫/৪৮ ও ৫/৬০ লাভ করেন। তাসত্ত্বেও মাদ্রাজ দল খেলায় পরাজিত হয়েছিল।

কোন কারণ ছাড়াই তামিলনাড়ু দল থেকে বাদ পড়েন। এমনকি নিজস্ব শেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে বল করার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ১৯৮৫ সালে স্টেট ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। এরপর চেন্নাইয়ে এমএসি স্পিন একাডেমি পরিচালনা করেন।

Similar Posts

  • |

    নয়ন মোঙ্গিয়া

    ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৬৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমএস ধোনি’র পূর্বে ভারতের…

  • | |

    কিথ থমসন

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ তারিখে ক্যান্টারবারির মেথভেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট ও হকি খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১ সালে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রথমবারের মতো হকি…

  • |

    দাত্তু ফাড়কর

    ১২* ডিসেম্বর, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪২-৪৩ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা,…

  • |

    লাসিথ এম্বুলদেনিয়া

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। রঙ্গনা হেরাথকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। রঙ্গনা হেরাথের ন্যায় তিনিও টেস্টভুক্ত সকল দেশের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করার স্বপ্ন দেখেন। ধারাবাহিকতা…

  • | | | |

    কার্ল হুপার

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়েও সবিশেষ দক্ষতার ছাঁপ প্রকাশ করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাট ও বল – উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর মাঝে আলস্যতা বিরাজমান ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা এবং ইংরেজ কাউন্টি…

  • |

    পিটার কার্লস্টেইন

    ২৮ অক্টোবর, ১৯৩৮ তারিখে ট্রান্সভালের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের আগে-পিছে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, অরেঞ্জ…