|

সোহেল খান

৬ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মালাকান্দ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে ‘সোহেল পাঠান’ নামে পরিচিত। করাচীর বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের ন্যায় তিনিও রশীদ লতিফ ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। করাচীতে চলে আসার পর ফাস্ট বোলার প্রতিভা অন্বেষণে তাঁকে সনাক্ত করা হয়। ক্লাব ক্রিকেটে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে সিন্ধু ও সুই সাউদার্ন গ্যাস কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, করাচী ডলফিন্স, করাচী কিংস, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান সুলতান্স ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়টর্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ২৬ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান কাস্টমস বনাম সুই সাউদার্ন গ্যাস কর্পোরেশনের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম নয় খেলায় অংশ নিয়ে ৬৫ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, আটবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার খেলায় দশ উইকেট লাভে ১৮৯ রান খরচায় ১৬ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ফজল মাহমুদের ৭৬ রান খরচায় খেলায় ১৫ উইকেট লাভের দীর্ঘদিনের জাতীয় রেকর্ড ভঙ্গ হয়ে যায়। অনবদ্য খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০০৮ থেকে ২০১৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট, ১৩টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর, ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে করাচীতে ব্যাটিং উপযোগী পিচে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। খুররম মঞ্জুরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১৩১ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইউনুস খানের মনোরম ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

পরের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে দুই বছরের অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল। এ স্তরের ক্রিকেটে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। দৃশ্যতঃ তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটলেও ২০১৬ সালে এজবাস্টন টেস্টে অংশ নেয়ার জন্যে পুণরায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বেশ ভালো খেলেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৯ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৭৮ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৬৫ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্টিভেন স্মিথের শতকের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দলে নেয়া হয়। তন্মধ্যে, দুইটি লিস্ট-এ খেলায় দশ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপূর্বে ২০১১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বশেষ একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেন। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পাঁচটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এ সময়ে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৎকালীন ব্যক্তিগত সেরা ৩/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    জুলকারনাইন হায়দার

    ২৩ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লম্বা ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী। ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেন। চার বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেন। ১৮ বলে ২৩…

  • |

    ইসরার আলী

    ১ মে, ১৯২৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শুরুতে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করতেন ও পরবর্তীতে নিচেরসারিতে চলে গেলেও তেমন সফলতা পাননি। ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে মাঝে-মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষে বোলিং…

  • | |

    তৌসিফ আহমেদ

    ১০ মে, ১৯৫৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সঙ্গী আব্দুল কাদির ও ইকবাল কাশিমের সাফল্যে প্রায়শঃই তাঁর সফলতা ম্লান হয়ে পড়তো। তবে, তিনি দক্ষতা ও বিপক্ষণতা সহকারে অফ-স্পিন…

  • |

    ফ্রেডরিক কাইজ

    ২১ মার্চ, ১৮৭০ তারিখে কেপ কলোনির জর্জ এলাকায় জন্মগ্রহকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • |

    ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২…

  • | |

    কলিন স্নেডেন

    ৭ জানুয়ারি, ১৯১৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী তারকা ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মিডিয়াম-পেসের ন্যায় ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। প্রায়শঃই নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের…