৬ জুন, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের গাগ্গু মান্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘ ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী বামহাতি ফাস্ট বোলার। এখান থেকেই আরেক দীর্ঘদেহী বোলার মোহাম্মদ জাহিদের উত্থান ঘটে। তাঁর উচ্চতা নিয়ে পিসিবি বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছিল। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি, ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি ও ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার তথ্য প্রকাশ করলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। যদি ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রিকেটার হবেন ও পছন্দের তালিকায় থাকা জোয়েল গার্নারের উচ্চতাকে অতিক্রম করবেন।
নিজ শহরে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকায় এক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দেন। পরিবারকে সহায়তাকল্পে ক্লাব ক্রিকেটে অর্থের বিনিময়ে খেলায় অংশ নেয়া সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গকালীন পাইপ ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। পরবর্তীতে, আকিব জাভেদের দৃষ্টিগোচরে পড়লে লাহোরভিত্তিক ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থে তাঁকে নেয়া হয়।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, লাহোর রিজিওন হোয়াইটস, মুলতান, পাঞ্জাব, সিন্ধু, সাউদার্ন পাঞ্জাব এবং ওয়াটার ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাল্খ লিজেন্ডস, বালুচিস্তান বিয়ার্স, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, ঢাকা ডায়নামাইটস, দূরন্ত রাজশাহী, এডমন্টন রয়্যালস, হংকং আইল্যান্ড ইউনাইটেড, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, লাহোর টাইগার্স, মুলতান সুলতান্স, পাখতুন্স, পেশাওয়ার জালমি, রাজশাহী রয়্যালস, সিডনি সিক্সার্স ও উইনিপেগ হকসের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৯ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের পক্ষে খেলেন। ১০ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ বনাম পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় নয় উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ মৌসুমে দশ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৩ উইকেট পেয়েছিলেন। ২০১০ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় আঘাতগ্রস্ত সিমারদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্যে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সুনজরে ছিলেন। তবে, স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এক বছর পর আন্তর্জাতিকে প্রথম অংশ নেন। ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে স্বীয় খেলার ধারা অব্যাহত রাখতে থাকেন। পেস বৃদ্ধিসহ শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।
২০১০ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১০ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১২ সালে ভারতের মাটিতে খেলার উদ্দেশ্যে সীমিত-ওভারের সিরিজে তাঁকে রাখা হয়। ১৪০ কিলোমিটারের অধিক গতিবেগে বোলিং করেন। অতিরিক্ত বাউন্সে ব্যাটসম্যানদের কোনঠাঁসা করে রাখেন।
সুন্দর খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২-১৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের উদ্দেশ্যে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলে রাখা হয়। সেখানেই তাঁর টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ চলে আসে। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৮৬ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবিন পিটারসনের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
শুরুরদিকে পাকিস্তানের পক্ষে মাঝে-মধ্যে অংশ নেয়ার সুযোগ পেতেন। তবে, ২০১৩ সালের শুরুরদিক থেকে দ্রুত দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। মার্চ, ২০১৩ সালে ওডিআইয়ে তৎকালীন সেরা খেলা উপহার দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৩ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে দুবাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতা গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ৯২ রানে জয় পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
