| |

মন্নভা প্রসাদ

২৪ এপ্রিল, ১৯৭৫ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রচণ্ড পরিশ্রমী ও দক্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ দলে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর মন জয় করেন। এছাড়াও, ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ভারতের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরেও দারুণ খেলেন ও ক্রিকেটবোদ্ধাদের মন জয় করেন। এ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলে খেলা সময়ের ব্যাপার হিসেবে ধরে নেন। এ মৌসুম শেষ হবার পূর্বে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসে। শতাব্দী পরিবর্তনের সময়ে এসে বেশ কয়েকজন উইকেট-রক্ষকের অন্যতম হিসেবে ভারতের জাতীয় দলে খেলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তিনি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিতে হয়েছে। কিশোর দল থেকে রঞ্জী দল এবং অতঃপর জাতীয় দলে খেলেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সময়কালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ মে, ১৯৯৮ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দেবাং গান্ধীবিজয় ভরদ্বাজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, জবাগল শ্রীনাথের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪১ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিয়মিত উইকেট-রক্ষক নয়ন মোঙ্গিয়া’র আঘাতের কারণে গ্লাভস হাতে নেয়ার সুযোগ পান। নিউজিল্যান্ড ও পরবর্তীতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারত দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের শোচনীয় ফলাফলের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ঐ সিরিজে মাত্র ৮.৬৬ গড়ে ৫২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। নয়ন মোঙ্গিয়া’র আঘাতের কারণে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন ভালোমানের ব্যাটসম্যান না হলেও আধুনিককালের উইকেট-রক্ষকদের স্ট্যাম্পের সামনে থেকেও দলে ভূমিকার সাথে একাত্মতা পোষণ করতে পারেননি।

পরবর্তীতে ব্যাট হাতে নিয়েও উল্লেখযোগ্য সফলতা পান। কয়েক মৌসুম পর হিমাচলপ্রদেশের বিপক্ষে ১৩০ রান তুলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে দুই শতক সহযোগে ৪৪.৩৫ গড়ে ৭৫৪ রান তুলেন। পাশাপাশি ১১ খেলায় অংশ নিয়ে ৩২ ডিসমিসাল ঘটান। এ পর্যায়ে খেলোয়াড়ী জীবনে এটিই ব্যাট হাতে তাঁর ৪০ গড়ে রান সংগ্রহ ছিল। কিন্তু, বড় আসরের গ্লাভস নয়ন মোঙ্গিয়া’র কাছে চলে যায়। এর কিছুদিন পর পার্থিব প্যাটেল, দীপ দাসগুপ্তা থেকে দিনেশ কার্তিক পর্যন্ত গড়ানোর পর এমএস ধোনি’র কাছে হস্তান্তর হয়। এরপর, আর তাঁকে খেলতে দেখা যায়নি। কিন্তু, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অন্ধ্র দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বশেষ খেলায় অংশগ্রহণের ছয় বছর পর ২০১৫ সালে দক্ষিণাঞ্চলে ভারতের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে মনোনীত হন। এক বছর পর সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে সন্দীপ পাতিলের পরিবর্তে তিন-সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান হন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় সাবেক ক্রিকেটারদের ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন। তাসত্ত্বেও, অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রী’র সাথে সুন্দর বোঝাপড়ায় খেলার মাঠে ভারত দলে বেশ সফলতম সময় অতিবাহিত করে। তেমন বড় ধরনের বিতর্কের মুখোমুখি হননি। চার বছরের চুক্তির মেয়াদ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সালে ভারতের নিউজিল্যান্ড সফরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Similar Posts