১১ জুন, ১৯৭১ তারিখে হকস বে’র হ্যাস্টিংসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী তিনি। অফ-স্ট্যাম্পের দিকে আসা বলগুলো ক্রমাগত ছেড়ে দিতেন। নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশেষতঃ টেস্ট অঙ্গনে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মর্যাদা পান। বামহাতি স্পিনার হিসেবে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এ সময়ে ১০ নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। তবে, এক পর্যায়ে বামহাতি স্পিনারের বোলিংয়ের ধার অকার্যকরের বিষয়টি অনুধাবন করলে ব্যাটিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। পরবর্তীতে নিজেকে খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানে পরিণত করেন।

১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাকিংহামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।

২০০০ থেকে ২০০৪ সময়কালে নিউজিল্যান্ডে পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পল ওয়াইজম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। শতরানের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯৯ রান সংগ্রহ করে এমলুলেকি এনকালা’র বলে এলবিডব্লিউতে বিদেয় নিলে তাঁকে প্যাভিলিয়নমূখী হতে হয়। ক্রিস কেয়ার্নসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এরপর, আরও কয়েকটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও কোনটিকেই তিন অঙ্কের কোটায় নিয়ে যেতে পারেননি। অবশেষে ২০০১ সালে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে শতরানের সন্ধান পান। এ সফরে মোহাম্মদ ইউসুফকে বিদেয় করে নিজের একমাত্র উইকেট লাভ করেছিলেন। এ অর্জনকে ঘিরে মজা করে ২১ বোলিং গড়ের বিপরীতে রিচার্ড হ্যাডলি’র ২২.২৯ গড়ের চেয়ে এগিয়ে রাখেন। তিনি মাত্র এক উইকেট পেলেও রিচার্ড হ্যাডলি ৪৩১ উইকেট পেয়েছিলেন।

২০০০ সালে শেন ওয়ার্নের শতক হাঁকানোয় বাঁধার প্রাচীর গড়ে তুলেন। পার্থে অনুষ্ঠিত টেস্টে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র বলে তিনি ক্যাচ নিয়ে ওয়ার্নকে ৯৯ রানে বিদেয় করেন। পরবর্তীতে, শেন ওয়ার্নের এটি সর্বোচ্চ রানে পরিণত হয়েছিল।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৭৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তবে, ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

২০০২ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ জুন, ২০০২ তারিখে গ্রেনেডার সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৯৫ ও ৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিস গেইলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

একই বছর ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেন। সবুজ পিচে নিজের সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। সুইং বোলারদের উপর পাল্টা চড়াও হন। ৮৯ রান তুলে দলের ১০ উইকেটের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ঐ খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৩ সালে পুণরায় একই দলের বিপক্ষে নিজের সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। নিষ্প্রাণ পিচে নিজের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৫ রানের টেস্ট শতক হাঁকান। অপর তিন ব্যাটসম্যানের সহায়তায় নিউজিল্যান্ড দল বিদেশের মাটিতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় রান ৬৩০/৬ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৩ ও ১০১ রান সংগ্রহ করেন। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ড দল ঐ খেলায় সাত উইকেটে পরাভূত হয়। ২০০৪-০৫ মৌসুমে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৯ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ৯ ও ১৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। উভয় ইনিংসেই মাইকেল কাসপ্রোভিচের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। জাস্টিন ল্যাঙ্গারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা খেলায় ২১৩ রানে পরাজয়বরণসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৪ সালে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর, স্কাই স্পোর্টস এনজেডে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকা গ্রহণের পাশাপাশি রেডিও স্পোর্টসের উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Similar Posts

  • |

    জর্জ গান

    ১৩ জুন, ১৮৭৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের হাকনল টর্কার্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব সম্ভবতঃ নটিংহ্যামশায়ারের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। দলটিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।…

  • |

    ব্রুস মিচেল

    ৮ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখে ট্রান্সভালের ফেরেইরা ডিপ গোল্ড মাইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লম্বাটে গড়নের অধিকারী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রায়শঃই অনড়, অটল, অবিচল…

  • |

    সুধীর নায়েক

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। টারডিও এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নয় ভাই-বোনের অন্যতম ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। টেনিস বলে আন্ডার আর্ম ক্রিকেট খেলেন। টারডিওর চিকলাদিতে ক্রিকেট খেলাকালীন সুনীল গাভাস্কার, মিলিন্ড রেগে…

  • |

    ইব্রাহিম মাকা

    ৫ মার্চ, ১৯২২ তারিখে দামানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শুরুর দিনগুলোয় তাঁকে দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করতে হয়। তাঁর পিতা কার্গো জাহাজের সারেং হিসেবে মাসিক ₹১৫০ রূপীতে দশ সদস্যের পরিবারের জীবন কাটতো। এক পর্যায়ে এ পরিবারটি বোম্বের ক্রফোর্ড…

  • |

    স্কট বর্থউইক

    ১৯ এপ্রিল, ১৯৯০ তারিখে কো ডারহামের সান্ডারল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।…

  • |

    ইমরান তাহির

    ২৭ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। রমজান তাহির ও আতিয়া তাহির দম্পতির সন্তান। তাঁর আরও দুই ভ্রাতা রয়েছে।…