৪ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ল্যাম্বি’ ডাকনামে পরিচিত গ্রেগ ল্যাম্ব ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
অবিশ্বাস্যভাবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। তবে, পেশাদারি ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছিলেন। বেশ মিতব্যয়ীপূর্ণ বোলিংয়ে পাশাপাশি অফ স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, বেশ পরিশ্রমী খেলোয়াড় হিসেবে শীর্ষসারিতে কিংবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমিতে খেলার পর ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষে যুবদের ক্রিকেটে অংশ নেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
জিম্বাবুয়ের লোমাগান্ডি কলেজ ও গিল্ডফোর্ড কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রশাসনিক দূর্বলতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টের সদ্ব্যবহার করেন ও ইংল্যান্ডে চলে যান। ২০০১ সালের গ্রীষ্মকালে হ্যাম্পশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছিলেন। কেন্টের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষেও কিছু সময় অতিবাহিত করেছিলেন। সাদা-বলের খেলায় দক্ষতা অর্জন করেন। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে ১০৭টি খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। তন্মধ্যে, ৮৫টি খেলা ছিল ৫০-ওভার কিংবা টি২০ ক্রিকেটের।
২০০৫ সালে লর্ডসে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে সিএন্ডজি ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় শিরোপা বিজয়ী হ্যাম্পশায়ার দলের সদস্যরূপে খেলেন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের রানার্স-আপ হওয়া দলটির পক্ষে খেলেন। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়নশীপে দলে নিয়মিতভাবে খেলতে বেশ হিমশিম খান। তাসত্ত্বেও, টি২০ কাপ প্রতিযোগিতায় ব্যাটিং গড়ে দলের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করেন। ১১৫.৮২ স্ট্রাইক রেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ বেশ কমে যায়।
২০০৭ সালে ভালোমানের খেলা উপহার দিতে পারেননি। ২০০৮ সালে আরও সুযোগ পান। তবে, কেবলমাত্র সীমিত-ওভারের খেলাগুলোয় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ২০০৯ সাল শেষে প্রথম একাদশের কোন খেলায় অংশ না দিয়ে হ্যাম্পশায়ার থেকে অব্যাহতি পান। ফলশ্রুতিতে, জিম্বাবুয়েতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তটি বেশ কার্যকর হয়। এক মৌসুম শেষ হবার পূর্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১০ থেকে ২০১১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ১৫টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ওডিআইয়ে অংশ নেন। ৪ মার্চ, ২০১০ তারিখে প্রভিডেন্সে অনু্ষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন।
পরের বছর ১ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, মোহাম্মদ হাফিজের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পায়। ৩৯ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ৩/১২০ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। চারদিনের খেলা ও একদিনের ক্রিকেটে ৫৯.৫৯ গড়ে ১৩১১ রান তুলেন। লোগান কাপে ৫৫.৬৮ গড়ে দুই শতক সহযোগে রান তুলেন। একদিনের প্রতিযোগিতায় ৬৪.০০ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৩২.৮৫ গড়ে বোলিং করার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলেন।
২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। পাশাপাশি আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনার অনুমতি পান।
তবে, ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন। ক্লাবল্যান্ডের পক্ষে বিদেশী পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। লিনস্টার ও দ্য হিলস সিসির পক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে যোগ দেন। তবে, মালাহাইডের বিপক্ষে দূর্দান্ত ৭৪ রান তুলে দলকে রক্ষা করেন। বল হাতে নিয়ে ১৬.৫০ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন। নর্থ কিলডেয়ার সিসির বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৫/১৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।
