|

জুলকারনাইন হায়দার

২৩ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

লম্বা ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী। ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেন। চার বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেন। ১৮ বলে ২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পাশাপাশি তিনটি ক্যাচ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় দলের শিরোপা বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৩ থেকে ২০১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড ও রাওয়ালপিন্ডির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০৭ থেকে ২০১০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, চারটিমাত্র ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দল শোচনীয়ভাবে পরাভূত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ খেলেন।

ফলশ্রুতিতে, ২০১০ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে কামরান আকমলের সহকারী হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। কিন্তু অভিজ্ঞ উইকেট-রক্ষকের অনুপস্থিতির সুযোগ প্রথম একাদশে খেলার সুযোপ পান। ঐ বছর সালমান বাটের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ আগস্ট, ২০১০ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম বলেই তিনি কট আউটে বিদেয় নেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে মনোমুগ্ধকর ও দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব নিয়ে ৮৮ রান সংগ্রহের মাধ্যমে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করেন। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য বোলিংয়ে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার পথ প্রশস্ত করেছিলেন। টেস্ট অভিষেকের পর আঙ্গুল ভেঙ্গে গেলে এ সফরের বাদ-বাকী সময়ে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। এরপর, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন অসাধারণ ছিল। পাশাপাশি, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ থেকে লন্ডনে চলে যান। চতুর্থ ওডিআইয়ের পর মৃত্যুর হুমকি পান। নিরাপত্তার স্বার্থে লন্ডনে আশ্রয় নেন। তবে, ২০১১ সালে পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন করেন।

Similar Posts

  • |

    কেশব মহারাজ

    ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিনি। পিতা নাটালের পক্ষে উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। নর্থউড বয়েজ হাইয়ে পড়াশুনো করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে পেস বোলিং করতেন। পরবর্তী…

  • | | |

    নামি ডিন

    ২১ জুলাই, ১৮৯৫ তারিখে জুলুল্যান্ডের এশোই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ও কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পয়েন্ট, সিলি-পয়েন্ট, মিড-অন ও শর্ট-লেগের ন্যায় কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন। আকর্ষণীয় ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। উইকেটে…

  • |

    জহির খান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন ভারতীয় ফাস্ট বোলার ছিলেন। পুরনো বলকে ঘুরাতে পারতেন ও ইয়র্কারের সমন্বয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। ক্রিকেটের জন্যে প্রকৌশলী হতে…

  • |

    জাকির খান

    ৩ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বান্নু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় ও শক্তি-মজবুত গড়নের অধিকারী। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে শুরু করে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • | |

    হ্যারি মোজেস

    ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের উইন্ডসর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তি ধারণপূর্বক রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    রোহিত শর্মা

    ৩০ এপ্রিল, ১৯৮৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের বানসোদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পূর্ণিমা শর্মা ও গুরুনাথ শর্মা দম্পতির সন্তান। পিতা পরিবহণ প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনার…