১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
পাকিস্তানী ক্রিকেটের শুরুরদিকের অন্যতম তারকা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আকর্ষণীয় স্ট্রোক খেলার অধিকারী ছিলেন। দলের সঙ্কটকালে নিজেকে যথেষ্ট মেলে ধরতেন। কভার অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন ফিল্ডিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। উইকেটের উভয় দিকেই স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ও সার্ভিসেসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন।
১৯৫২ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট খেলতে ভারত গমন করেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আব্দুল কারদার ও আমির ইলাহী ব্যতীত বাদ-বাকী সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭০ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন দলীয় সংগ্রহ ৬০/৬ থাকা অবস্থায় ৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রান তুলেছিলেন। ঐ টেস্টে ভারত দল জয় পেলেও পঞ্চম টেস্টে পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৯৭ রান তুলেন। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে দলের বিপর্যয় রক্ষা করেন।
১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১১১/৬ থাকাকালীন দলের হাল ধরেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ইমতিয়াজ আহমেদকে সাথে নিয়ে ৩০৮ রানের জুটি গড়েন। এ জুটিটি পাকিস্তানের প্রথম তিন শতাধিক রানের জুটি ছিল। সপ্তম উইকেটে যে-কোন দেশের বিপক্ষে তাঁদের সর্বোচ্চ রানের জুটি হিসেবে অক্ষত রয়েছে। এ পর্যায়ে ১৮৯ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ও একমাত্র শতক হাঁকান। এরফলে, পাকিস্তানের পক্ষে টেস্টে তৎকালীন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়লেও একই খেলায় তা ভেঙ্গে পড়ে। নিউজিল্যান্ড দল স্বল্প ব্যবধানে ৪ উইকেটে পরাজিত হলেও খেলাটি যথেষ্ট উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।
পরবর্তীকালে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর, ব্যবসায়িক জগতের সাথে যুক্ত হন। পাকিস্তানের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ন্যাশিওনা ফুডস লিমিটেডের কর্পোরেট পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। লন্ডনে বসবাস করতে থাকেন। অতঃপর, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে করাচীতে ৮৭ বছর ১৫১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
