৬ জুন, ১৯৭০ তারিখে কর্ণাটকের গাদাগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনীতে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে হাবলিতে প্রত্যেকদিন সকালে অনুশীলন করতেন। এরপর গাদাগভিত্তিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন। একাগ্রচিত্তে অনুশীলন ও ক্রিকেটের প্রতি সুগভীর ভালোবাসাই তাঁকে কর্ণাটক দলে ঠাঁই পেতে সহায়তা করে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বেডফোর্ডশায়ার ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে ৫২ উইকেট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৬ গড়ে ৫২৯ রান তুলেছিলেন। তাঁর এ সাফল্য ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। পরের বছর জাতীয় দলের খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। তবে, তাঁকে নিচেরদিকের মাঝারীসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ও অনিল কুম্বলেকে স্পিন বোলার হিসেবে রাখা হয়। কুম্বলে’র প্রাধান্যতায় খুব কমই তাঁকে বোলার হিসেবে খেলানো হতো। ব্যাটসম্যান হিসেবে বিস্তৃত শট খেলার সুবাদে ও অন্যান্য বোলারের সাথে তুলনান্তে তাঁকে প্রায়শঃই উপেক্ষিত হতে হতো।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও ৬৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পর তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে। ঐ বছর মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বেঙ্কটেশ প্রসাদ, পরস মাম্ব্রে ও বিক্রম রাঠোরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসে তিনি ১২ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
এরপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। এরফলে, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারান। বিষেন সিং বেদী’র পরামর্শক্রমে তাঁর বোলিংয়ের ধার আরও বাড়তে থাকে। নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের এলজি কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ দক্ষতার ছাঁপ পরিলক্ষিত হয়। ১০-৬-৬-৫ বোলিং বিশ্লেষণ করেন। এরফলে, ওডিআইয়ের ইতিহাসে পূর্ণাঙ্গ ওভার শেষে তৃতীয় সেরা মিতব্যয়ী বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন ও পরবর্তীতে বাদ-বাকীদের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটিই যে-কোন বোলারের সেরা সাফল্য ছিল।
এক বছর পর ২০০০ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ভারতের বিজয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ২০০০-০১ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে বাংলাদেশ সফর করেন। ১০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ রানের ইনিংস খেলে স্বাগতিকদের ৪০০ রানের জবাবে ২৯ রানে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। এরপর, বল হাতে নিয়ে ৫/১৪২ ও ৩/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় ১২৯ রান খরচায় ৮ উইকেট দখল করেছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা খেলায় ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল। এটিই তাঁর প্রথম ও পরবর্তীতে একমাত্র পাঁচ-উইকেট ছিল। ঐ টেস্টে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ ও ১/১৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাড় করানোর পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে পুনেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রত্যাশিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে না পারলেও ঘরোয়া আসরে অবিরাম যোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হতেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজ রাজ্য দল কর্ণাটকের পক্ষে ঠিকই প্রত্যেক মৌসুমে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। জাতীয় দলে ফেরার জন্যে উন্মুখ হলেও শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। রাজ্য দলের বেশ কয়েকটি বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন ও দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাত বছর দূরে থাকলেও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের প্রথম দুই মৌসুম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মপ্রকাশে বেশ বাঁধার প্রাচীর গড়েছিলেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোয় একান্ত স্বাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘আমি কোন তরুণ খেলোয়াড়কে থামাতে চাই না। তবে, সে যদি আমাকে পাল্টা আঘাতে বিদেয় করে তাহলেই আমি থামবো।’ ২৫-এর কম গড়ে ৬১৫টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। ২১ জুন, ২০১২ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। হায়দ্রাবাদের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর দলকে প্রশিক্ষণ দেন। জুন, ২০১৫ সালে কেপিএলের আসরে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। স্যান্ডেলউড অভিনেতা সুদীপের মালিকানাধীন অল স্টার্স সেলিব্রটি ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলবেন।
