১২ আগস্ট, ১৮৯৭ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডেমেরারা ক্রিকেট ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবার ব্রিটিশ গায়ানা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯২৩ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্বকারী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফর করেন। ম্যালেরিয়া থেকে সুস্থ হয়ে উঠার পর এ সফরে ৩৪.৮৬ গড়ে ৫২৩ রান তুলতে পেরেছিলেন। লিচেস্টারে শতক হাঁকান। লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এ ইনিংস সম্পর্কে উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, কাটিং ও ড্রাইভিংয়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে এ সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯২৫ সালে বোর্দায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে ১২৪ রান তুলে রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। চার বছর পর একই মাঠে বার্বাডোসের বিপক্ষে ১৪১ রান তুলেন।
১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের অভিষেক টেস্ট সিরিজে অংশ নিতে কার্ল নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তিন নম্বর অবস্থানে খেলেছিলেন তিনি। শূন্য ও ৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এরফলে, সিরিজের শেষ দুই টেস্টে দল থেকে বাদ পড়েন।
২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে জর্জটাউনের বোর্দা ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট বিজয়ে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলো-অন করানোর সুযোগ পেয়েও প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানাননি। খেলা শেষ হবার চার মিনিট পূর্বে ২৮৯ রানের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। প্রথম ইনিংসে ক্লিফোর্ড রোচ ২০৯ এবং জর্জ হ্যাডলি উভয় ইনিংসে জোড়া শতক হাঁকালেও চার নম্বর অবস্থানে নেমে তিনি ২২ ও ১৯ রান তুলতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন ও জর্জ ফ্রান্সিস খেলা থেকে ১৫ উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অনমনীয় চিত্তে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন ও মিতভাষী ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ৪৬ খেলা থেকে ২৮.২০ গড়ে ২০৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। লেসলি ফার্নান্দেজ নামীয় সন্তানের জনক। ৮ মে, ১৯৮১ তারিখে গায়ানার জর্জটাউনে ৮৩ বছর ২৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
