১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, দারুণ ফিল্ডিং করতেন।
জন্ম সনদে ‘লিওনেল এসমে হেগ’ নামে পরিচিত নাইজেল হেগ এটন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। লর্ড হ্যারিসের ভ্রাতৃষ্পুত্র ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল ফিল্ড আর্টিলারিতে যুক্ত ছিলেন ও এম.সি. লাভ করেন। এটনে অবস্থানকালে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। দুইটি বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে শৌখিন অল-রাউন্ডার হিসেবে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯২৯ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে শেষ ছয় বছর দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই মৌসুমে এইচ. জে. এনথোভেনের সাথে যৌথভাবে দলকে নেতৃত্ব দেন। এ সময়ে সম্মানীয় সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯১২ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এ সময়ে দলটির পক্ষে ৪১৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে এগারো শতক সহযোগে ২০.৭৯ গড়ে ১২২৮৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৮২টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৯২০ ও ১৯২১ সালের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলটির সদস্য ছিলেন। ১৯২০ সালে লর্ডসে সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৩১ রান তুলেছিলেন। পাঁচবার মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯২৯ সালে ২৪.১৭ গড়ে ব্যক্তিগতভাবে মৌসুমের সেরা ১২৯ উইকেট দখল করেন। তিনবার ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। ১৯৩৬ সালে এইচ. জি. লেভেসন-গাওয়ার একাদশের পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
১৯২১ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ড পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শোচনীয়ভাবে শেষ হওয়া ঐ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আলফ্রেড ডিপার, জ্যাক ডারস্টন ও জন ইভান্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩ ও ০ রানে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬১ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে সম্মানীয় এফ. এস. জি. ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। এ সিরিজের চার-টেস্টের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তবে, তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৩ ও ১/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২০.৮৩ গড়ে ১৫২০৮ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেসের চেয়ে কিছুটা বেশী সুইং-বোলিং করে ২৭.৪৭ গড়ে ১১১৬ উইকেট দখল করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি টেনিস, র্যাকেট, স্কোয়াশ ও গল্ফে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। লন টেনিসে তাঁর খেলার মান অনেকাংশেই উইম্বলেডনের সমপর্যায়ের ছিল। ১৯২৯ সালে টেস্ট দল নির্বাচকের দায়িত্বে ছিলেন। ২৭ অক্টোবর, ১৯৬৬ তারিখে সাসেক্সের ইস্টবোর্ন এলাকার হাসপাতালে ৭৮ বছর ৩১৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
