| |

জ্যাক ও’কনর

৬ নভেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে কেমব্রিজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে চমৎকার খেলা উপহার দিয়েছেন। আকর্ষণীয় স্ট্রোক-প্লে মারতেন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব-পর্যন্ত দুই দশকে এসেক্সের অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণিত করেন। ১৯২১ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ১৯ বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ক্লাবের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। টম পিয়ার্স, মরিস নিকোলস ও হপার রিডের ন্যায় অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়ের সাথে খেলে ক্লাবের অগ্রযাত্রায় অন্যতম ভূমিকা রাখেন।

২৩ বছর বয়সে ১৪ মে, ১৯২১ তারিখে লেটনে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় প্রথম অংশ নেন। তবে, ১৩ রান তুলে রান-আউটে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল। ঐ বছর মাত্র চারটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান ও সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। প্রথম একাদশে থেকে শুরুরদিকে তেমন উল্লেখযোগ্য ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বাক্ষর না রাখলেও পরবর্তীতে কৃতিত্বের সাথে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিক্রম করেন।

১৯২২ সালে দলের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিতে থাকেন। নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১০২ রানের নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলেন ও এসেক্সের জনগণের কাছ থেকে আকর্ষণীয়, উজ্জ্বীবিত মন্তব্য আসতে শুরু করে। প্রতিপক্ষীয় বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে নিজেকে ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত করতে থাকেন।

এসেক্সের সদস্যরূপে ৫১৬ খেলায় অংশ নিয়ে ৩৫.১৮ গড়ে ৭১ শতক সহযোগে ২৭৭২২ রান তুলেছেন। অংশগ্রহণকৃত প্রত্যেক কাউন্টিসহ অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের বিপক্ষে শতরান করছেন। ১৯৩৪ সালে ব্রেন্টউডে অনুষ্ঠিত খেলায় সারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২৪৮ রান তুলেন। এছাড়াও, ৩২.৬৩ গড়ে ৫৩৭ উইকেট দখল করেছেন।

১৯২৯ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৯২৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। ওয়াল্টার রবিন্সের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫১ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টমি স্কটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/০ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অনেকগুলো বছর এটনে কোচের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৪৬-৪৭ সালে বাকিংহ্যামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। এরপর, চিগওয়েলে প্রশিক্ষণ দেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে এসেক্সের বাকহার্স্ট হিল এলাকার ফরেস্ট হাসপাতালে ৭৯ বছর ১০৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    হনুমা বিহারী

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা কাকিন্দায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধ্রুপদীশৈলীর সঠিকমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান তিনি। পূব বাতাসের ন্যায় স্থিরচিত্তে খেলে থাকেন। অত্যন্ত স্থির প্রকৃতির ভিভিএস লক্ষ্মণের ন্যায় তাঁর উত্থানপর্বও বেশ ধীরলয়ে ঘটে। তবে, উত্তরণের বিষয়ে অগোচরে ছিল না। ২০১০ সাল…

  • | | |

    দিলীপ বেঙ্গসরকার

    ৬ এপ্রিল, ১৯৫৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের রাজাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। লম্বাটে ও শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয়…

  • |

    বার্নার্ড ট্যানক্রেড

    ২০ আগস্ট, ১৮৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘এবি’ ডাকনামে ভূষিত বার্নার্ড ট্যানক্রেড গ্রাহামসটাউনভিত্তিক সেন্ট এইডান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ট্যানক্রেড ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। স্নাতক…

  • | |

    ফিল সিমন্স

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে ত্রিনিদাদের অ্যারিমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কৈশোরে সকল ধরনের খেলায় পারদর্শী ছিলেন। তবে, পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েন। গর্ডন গ্রীনিজকে…

  • |

    অ্যাডাম ডেল

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইভানহো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছন্দোবদ্ধ বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দক্ষতার সাথে সুইংসহ সিম বোলিং করতেন। শূন্যে বলকে ঘুরানোর পাশাপাশি অফের দিকে বল ফেলতেন ও প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত…

  • | |

    লিন্ডসে টাকেট

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৯ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ফাস্ট বোলিং তারকার মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে নিজের সেরা সময়টুকু হারিয়ে ফেলেন। তাসত্ত্বেও,…