২ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হারারেভিত্তিক প্রিন্স এডওয়ার্ড হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। কিন্তু, ২০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ভিবি সিরিজে ভারতীয় বোলার ইরফান পাঠানের বল মাথায় আঘাত হানলে স্বাভাবিক ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে বিঘ্ন ঘটায়।
আড়াই বছর পর হারারে স্পোর্টস ক্লাব ও ন্যাশনাল একাডেমির কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আগস্ট, ২০০৬ সালে গ্রেফতার হন। তবে, জানুয়ারি, ২০০৮ সালে শুনানীতে তাঁকে এ অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। আঘাতের পর থেকে মানসিক সমস্যায় পতিত হন ও কিছুটা নিস্তেজ হয়ে যান। দৃশ্যতঃ খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। তবে, তিনি অবসর নেননি। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে খেলার মাঠে ফিরে আসেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেন। এরপর আবারও অদৃশ্য হয়ে যান।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’, মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, মিড ওয়েস্ট রাইনোস, মাউন্টেনিয়ার্স, ওয়েস্টার্নস ও সাউদার্ন রক্সে যুক্ত থেকে দেশের সবগুলো ক্লাবের পক্ষে অংশ নেন। এরপর পুণরায় নিজ শহর হারারেভিত্তিক ঈগলসে ফিরে যান। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে বোর্ড আরও একবার তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়। দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী হিসেবে আরও একবার নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে ৯২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন।
তবে, এ ধাক্কা থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেননি ও ২০১১ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর, গল্ফে মনোনিবেশ ঘটান। পরবর্তীতে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ও ২০১২ সালে জিম্বাবুয়ের বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেটে সাউদার্ন রক্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে আরও একবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সর্বশেষ চেষ্টা চালান। লোগান কাপে ৬৪.৪৪ গড়ে সাত খেলা থেকে ৫৮০ রান তুলেন।
সহজাত প্রবৃত্তি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেছিলেন। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতেন। পিছনের পায়ের উপর ভর করে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেটের চতুঃপার্শ্বে স্ট্রোক খেলতে সক্ষম ছিলেন। কাট, পুল ও হুক শট মারতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এছাড়াও, উপযুক্ত সময়ে কভার অঞ্চলে বলকে প্রেরণ করতেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও দৌঁড়ে দক্ষতার কারণে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
২০০০ থেকে ২০১৪ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ৪৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। নভেম্বর, ২০০২ সালে গাই হুইটলের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ের জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৬ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেন।
জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। আঘাতের পূর্ব-পর্যন্ত এ দায়িত্বের দিকেই অধিক মনোযোগী ছিলেন। তাসত্ত্বেও, ক্রোধে উন্মত্ততা ও বাজে আচরণের সাথে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ১৯৯৬ সালে হারারেভিত্তিক প্রিন্স এডওয়ার্ড হাইয়ে অধ্যয়নকালীন বিদ্যালয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত হন। দূর্বলমানের এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের কারণে স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে আসেন ও সাজঘরে দরজা আটকে অবস্থান করেন।
বিরক্তিকর আচরণসহ মাঠের বাইরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। দুইটি ঘটনায় নিজেকে জড়ান। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে দেশে ফেরৎ আসতে বাধ্য হন। এর পূর্বে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের ত্রয়োদশ ব্যাটসম্যান হিসেবে একই দিনে জোড়া শূন্য লাভের সাথে নিজেকে জড়ান। ব্যবস্থাপকীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভ্রমণ করেন ও মাঠ ছেড়ে চলে আসেন। হোভে খুবই ঠাণ্ডার কারণে বল থামাতে অস্বীকার করেন ও দলীয় ব্যবস্থাপকের সাথে ধ্বস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন। এরপর, ২০০৬ সালে সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ওয়েরনেথ বনাম অ্যাশটনের মধ্যকার খেলা চলাকালীন দর্শকদের সাথে দুর্ব্যবহারের কারণে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড সকল স্তরের ক্রিকেটে দশ বছরের জন্যে তাঁকে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। পরবর্তীতে আবেদনের মাধ্যমে তিন বছর কমানো হয়।
বুলাওয়েতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধৈর্য্যশীলতার অপূর্ব নিদর্শন গড়ে ১১৮ রানের একমাত্র শতক হাঁকান। টেস্টের তুলনায় ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলাতেই অধিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য ছিলেন। এ প্রতিযোগিতায় তিনটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন। মাঝে-মধ্যে অফ ব্রেক বোলিংয়ে এগিয়ে আসতেন। পূর্বে জাতীয় পর্যায়ে বর্শা নিক্ষেপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০০৪-০৫ মৌসুমে চমৎকার সময় অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৩.৬০ গড়ে রান পেয়েছেন। তবে, দেশের আর্থিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়লেও বিকল্প ক্ষেত্র না থাকায় ক্রিকেট খেলাতেই মগ্ন ছিলেন।
জুলাই, ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান। প্রথম চারদিনের খেলায় শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, এর অব্যবহিত পরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্ট খেলা থেকে উপেক্ষার শিকার হননি। ব্রেন্ডন টেলর মন্তব্য করেন যে, ‘শান্ত রয়েছেন, পরিবর্তনের ছোঁয়া পড়েছে।’
জিম্বাবুয়ের পক্ষে এক দশক পূর্বে সাদা-বলের খেলায় অংশ নেয়ার পর ২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার মাধ্যমে দলে ফিরে আসেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ২১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৬ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে জেডসি কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত হন।
