১৭ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
তাঁর দৌঁড়ানোর ছন্দ অনেকাংশেই বব উইলিস ও ডেনিস লিলি’র অনুরূপ ছিল। তবে, বোলিংয়ে পেসের অভাব পরিলক্ষিত হয়। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনেই ছন্দহীনতা ও আঘাতের কবলে পড়েছিলেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটের তুলনায় দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটেই অধিক সাফল্য পেয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ওয়েলিংটনের পক্ষে ২৩.১৬ গড়ে ৪৩ উইকেট লাভ করেন। এরফলে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। এ মৌসুমে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে খেলাকালীন চোখের নিচে আঘাত পান।
২০০৬ সালে টপ-এন্ড সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ঐ প্রতিযোগিতার কোন খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি।
২০০৬ থেকে ২০১২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট, ৩২টি ওডিআই ও ১১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তিনবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ২২ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, শুরুতে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড দল দূর্বল সংগ্রহ দাঁড় করালে তিনি বোলিং করার জন্যে আমন্ত্রিত হননি। একই দলের বিপক্ষে করেসপন্ডিং ওডিআই সিরিজে তাঁর ওডিআই অভিষেক হয়। ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত খেলায় ০/৬৪ পান। এরপর অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত খেলায় ৩/৩৯ লাভ করেন।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/১৩৬ পান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে ডেল স্টেইনের শিকারে পরিণত হন। তবে, ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৫৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪/৭৯ পান। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরের গ্রুপ পর্বের খেলায় ২.৫ ওভারে ৪/৭ লাভ করে কেনিয়াকে তাদের সর্বনিম্ন ৭৩ রানে গুটিয়ে দেন ও দল ৯ উইকেটের সহজ জয় পায়। ২০০৯ সালে নেপিয়ারের বৃষ্টিবিঘ্নিত ওডিআইয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪/৫৮ লাভ করেন।
বেশ কয়েকবার আঘাতের কবলে পড়েন। ২০১২ সালে পুণরায় নিউজিল্যান্ড দলে ফিরে আসেন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ মার্চ, ২০১২ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/১৩৬। বল হাতে নিয়ে ৫/৫৯ ও ০/২৪ লাভ করেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ বোলিং কীর্তিতে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৩ মার্চ, ২০১২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ভিডি ফিল্যান্ডারের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৫৯। খেলায় তিনি ৬/১১৩ ও ০/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন।
