৩১ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়েলিংটন দলে এক দশকের অধিক সময় তারকা খ্যাতি অর্জন করেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। পরবর্তীতে, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার পর থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ খেলেন। এরপর, সমীহ করা অধিনায়ক ছিলেন। ১১৯টি খেলায় অংশ নিয়ে ১২ শতক সহযোগে ৩৪.৪৩ গড়ে রান তুলেন। তন্মধ্যে, জানুয়ারি, ১৯৮৯ সালে ব্যাসিন রিজার্ভে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ১৯৯০ সালে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে এক ওভারে ৭৭ রান খরচ করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। বেশ দেরীতে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান। ৩৩ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ড দলে খেলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ মার্চ, ১৯৮৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলায় তিন নম্বর অবস্থানে একবার মাঠে নেমে ৪৩ রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
পরবর্তী গ্রীষ্মে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইবার খেলেন। তন্মধ্যে, অকল্যান্ডে ৬৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর, গ্রীষ্মের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও একটি টেস্টে অংশ নেন।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬৮ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অবশ্য, মার্ক গ্রেটব্যাচের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে এসে চার টেস্ট থেকে ২৯.৫৭ গড়ে ২০৭ রান তুলেন। অংশগ্রহণকৃত ওডিআইগুলোর মধ্যে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের শারজা কাপে সেরা ছন্দে অবস্থান করেছিলেন। ৪৬.৫০ গড়ে ১৮৬ রান তুলেন। সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯৬ রান তুলে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
