|

বিল মেরিট

১৮ আগস্ট, ১৯০৮ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চের সামনার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে প্লাঙ্কেট শীল্ডে ক্যান্টারবারির পক্ষে মাত্র একটি খেলায় অংশ নেয়ার পরপরই ১৯২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মে সফরকারী মেলবোর্ন সিসি দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অংশ নেন। লেগ-স্পিন ও গুগলি বোলিং করে প্রথম ইনিংসে ৭/৮৮ লাভ করেন।

চারটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অভিজ্ঞতাপুষ্ট অবস্থায় ১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে নিউজিল্যান্ডের প্রথম সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে দলে রাখা হলেও আশাতীত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। বোলিংয়ে দূর্বল দলের পক্ষে ২৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৩.৬৪ গড়ে ১০৭ উইকেট দখল করেন। যদি আরও সহযোগিতা লাভ করতেন তাহলে হয়তো আরও অধিক উইকেট পেতেন। সবগুলো খেলা থেকে ১৯.৫৪ গড়ে ১৬৯ উইকেট লাভ করেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সফরে ৯৯ উইকেট পান। নিশ্চিতরূপেই আবারও একশত উইকেট পেতে পারতেন। তবে, সফরের শেষদিনের বিকেলে তাঁকে বোলিং করার কোন সুযোগই দেয়া হয়নি।

প্রায় দুই দশকব্যাপী খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও ১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে মাত্র ছয় টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। অ্যাল্বি রবার্টস, স্টুই ডেম্পস্টার, টেড ব্যাডকক, জর্জ ডিকিনসন, হেনরি ফোলি, ম্যাট হেন্ডারসন, কার্লি পেজ, রজার ব্লান্ট, ও টম লরি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৮ ও ২/৭বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৩১ সালে টম লরি নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ফ্রাঙ্ক ওলিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ২/৯৪। খেলায় তিনি ৪/১০৪ ও ০/২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৭ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৮ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ইংল্যান্ডে বসবাস করতে থাকেন। ল্যাঙ্কাশায়ারে লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, উইগান ও হলিফ্যাক্সের পক্ষে রাগবি লীগে খেলতেন। ক্যান্টারবারি দলে উইং থ্রি-কোয়ার্টার অবস্থানে খেলতেন। রিশটনের সফলতম অল-রাউন্ডার ছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে আরও এক মৌসুম খেলতে নিউজিল্যান্ডে নিজ শহর ক্যান্টারবারিতে ফিরে আসেন। এক মৌসুম দলটিতে খেলেন। তিন খেলা থেকে ৩১ উইকেট দখল করে তৎকালীন রেকর্ড দাঁড় করান। এছাড়াও, ক্যান্টারবারির পক্ষে ৩৮৫ উইকেট দখল করে কিছু সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে রেকর্ড গড়েন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সময়কালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে ৪১ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২৬ গড়ে ১৫১ উইকেট দখল করেন। ব্যাট হাতে ১৯.৭৫ গড়ে রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৮৭ রান। দৃশ্যতঃ ক্রিকেটার হিসেবে সফলতম সময় অতিক্রম করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

১৯৩১ সালে লর্ডসে এমসিসি’র বিপক্ষে সেরা খেলা প্রদর্শন করেন। দুই দিন খেলাটি বৃষ্টির কবলে পড়লে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশ ৩০২/৯ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এমসিসি দল ১৩২ রানে গুটিয়ে গেলেও খুব কমই ফলো-অন পরবর্তী খেলায় ফলাফলের সম্ভাবনা থাকলে কিউই অধিনায়ক টম লরি তাঁকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনার আমন্ত্রণ জানালে তিনি ৭/২৮ লাভ করে এমসিসিকে ৪৮ রানে গুটিয়ে দিতে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ওরচেস্টারশায়ারের ডাডলিতে সফলতম ব্যবসায়ীরূপে আবির্ভূত হন। ৯ জুন, ১৯৭৭ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে ৬৮ বছর ২৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ১৯২৭ সালের ইংল্যান্ড সফরে এম. এল. পেজ, সি. জে. অলিভার ও ডব্লিউ. এইচ. কানিংহামের সাথে চারজন জীবিত সদস্যের অন্যতম ছিলেন।

Similar Posts

  • |

    পম পম ফেলোস-স্মিথ

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে…

  • |

    রবার্ট ভ্যান্স

    ৩১ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়েলিংটন দলে এক দশকের অধিক সময় তারকা…

  • |

    হিউ ব্রোমলি-ডেভেনপোর্ট

    ১৮ আগস্ট, ১৮৭০ তারিখে চেশায়ারের কেপসর্থন হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এটন কলেজে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনো করেছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত এটন একাদশের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই…

  • | |

    টিই শ্রীনিবাসন

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আয়ানগর পরিবারে তাঁর জন্ম। নাঙ্গামবাক্কাম কর্পোরেশন স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। সেখানকার কংক্রিটের পিচে অনুশীলন করতেন। বিদ্যালয়ের পেস বোলারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে…

  • | |

    জোয়েল গার্নার

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে বার্বাডোসের এন্টারপ্রাইজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রভাব বিস্তারে অন্যতম ফাস্ট বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ক্রিকেট জগতে তিনি জ্যামাইকার জাতীয় পাখী ডক্টর…

  • |

    মাইকেল ব্রেসওয়েল

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ তারিখে ওয়াইরারাপার মাস্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় ব্রেসওয়েল পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। পাঁচ বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ও বাস্কেটবলে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ…