২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে নর্থ অকল্যান্ডের ওমাহায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতি মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সহজাত প্রকৃতির ডানহাতি মিডিয়াম-পেসার হিসেবে খেলতেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৯-৪০ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ড ও ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১১২ রানের একমাত্র শতকের সন্ধান পেয়েছিলেন।
১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট সিরিজের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে ৭ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে নিয়ে ০/৮৯ ও ২/৭ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
এরপর, ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে আর একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। আবারও তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ খেলাটি অবশ্য প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩১ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ আগস্ট, ১৯৩১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টটি শেষদিনের শেষ বিকেলে শুরু হয়েছিল। ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৩১ সালের এ সফরে অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় তুলনামূলকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২৩.৮১ গড়ে ৪৪ উইকেট দখল করেন। গড়ের দিক দিয়ে তৃতীয় ও উইকেট সংগ্রহের জন্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করতে পারেননি।
হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে প্রথম খেলায় সেরা সাফল্য পান। খেলায় ৪/৪৯ লাভ করেছিলেন। তবে, ভেজা ও গ্রীষ্মের ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং পায়ে টান পড়লে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। ইংল্যান্ড সফরে সচরাচর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতেন। গ্লাসগোয় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭২ রান তুলেছিলেন।
এছাড়াও, রাগবি খেলোয়াড় হিসেব তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৪৬ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার রাগবি খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে অকল্যান্ডে ৭৯ বছর ৩০৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
