| |

মুরালি কার্তিক

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। প্রারম্ভিক বছরগুলো মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে রেলওয়েজ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার, সমারসেট, সারে ও মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, পুনে ওয়ারিয়র্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলতে শুরু করেন ও কিছুটা সাফল্যের সন্ধান পান। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলতে ব্যর্থ হন ও দুই বছর ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে রেলওয়েজের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেন। এ পর্যায়ে দলটির অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেন।

২০০০ থেকে ২০০৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ৩৭টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। ওয়াসিম জাফরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, দলীয় অধিনায়ক শচীন তেন্ডুলকরের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত খেলোয়াড়ী জীবনে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/২৮ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।

একই সফরের ২ মার্চ, ২০০০ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এমভি বাউচারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২৮। খেলায় তিনি ৩/১২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিকি বোয়ে’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৭১ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৬ মার্চ, ২০০২ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ খেলায় আট ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে দূর্দান্ত সফলতা পান। ৪/৪৪ ও ৩/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সাত উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অসামান্য বোলিং নৈপুণ্যে ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ১৩ রানে জয় পেলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২০ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৭৬ ও ২/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে এগুতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া আসরের প্রতিযোগিতাসমূহে ক্রমাগত সফলতার সন্ধান পান। ২০০৭ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ফলশ্রুতিতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২৭ রান খরচায় ছয় উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে কলঙ্কের ছাঁপ এঁকে দেয়। অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী’র বিশ্বস্ত সহযোগী হতে পারেননি। তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা হয়নি ও এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। ভারত দলে স্বল্পকালীন খেলার সুযোগ পেয়েছেন। স্বল্প কয়েকটি টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। অনবদ্য ভঙ্গীমা, দক্ষতা প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অনিল কুম্বলে এবং হরভজন সিংয়ের উপস্থিতি ও দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে দলে কখনো স্থায়ীভাবে খেলতে পারেননি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে বিশ্বের অন্যতম সেরা বামহাতি স্পিনার হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হতো। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ক্রিকেটের ইতিহাসের দশজন শীর্ষ উইকেট শিকারীর মধ্যে ঐ দুইজনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়।

৩৭ বছর বয়সে ২০১৪ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ১৭ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ২০৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৭০ গড়ে ৬৪৪ উইকেট দখল করেছেন। পাশাপাশি, ২০.১৯ গড়ে ৪৪২৩ রান পেয়েছেন। অবসর নেয়ার পর বিসিসিআইয়ের ধারাভাষ্যকার দলের সদস্যরূপে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। শ্বেতা কার্তিকের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

Similar Posts

  • |

    ডেন ভিলাস

    ১০ জুন, ১৯৮৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিলি’ ডাকনামে ভূষিত ডেন ভিলাস ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড প্রিপাইরেটরিতে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশুনো করেন। প্রতিভাবান উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে…

  • |

    পম পম ফেলোস-স্মিথ

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে…

  • | |

    মুদাসসর নজর

    ৬ এপ্রিল, ১৯৫৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে খাঁটিমানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও ওডিআইয়ে দূর্দান্ত অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরিসীম ধৈর্য্য ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী থেকে খেলায় বিরাট ভূমিকা রেখে গেছেন।…

  • | |

    দিনেশ চণ্ডীমল

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে বালাপিটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে ছিলেন। আম্বালাঙ্গোদাভিত্তিক ধর্মসকা কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। বিদ্যালয় জীবনে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান।…

  • | |

    ফিল হর্ন

    ২১ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে ওয়েলিংটনের আপার হাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। দলে মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ম্যাট হর্নের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তিনি। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • | |

    শিবসুন্দর দাস

    ৪ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ভুবনেশ্বরের ওড়িশায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে ওড়িশার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…