৩০ মে, ১৮৯৫ তারিখে সাসেক্সের প্রিস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘চাবি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। পিতা ফ্রেড টেট ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। সারের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছেন। ১৯১২ সালে সাসেক্সের পক্ষে প্রথম খেলতে শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ছেদ ঘটে। যুদ্ধ শেষ হবার পর খেলা শুরু হলে দ্বি-শতক হাঁকান ও অফ-ব্রেক বোলিংয়ে উইকেট পেতে থাকেন।
১৯২২ সালে কেন্টের বিপক্ষে খেলার পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণকালে অনুশীলনীতে পেস বৃদ্ধি করে আশু সফলতার সম্ভাবনা দেখতে পান। পরদিন নতুন ধরনের বোলিংয়ে কেন্টের আট উইকেট লাভ করেন ৩২ রানের বিনিময়ে। মাত্র আট কদম দূর থেকে বোলিং করে এ সফলতা পান। পরবর্তী দুই বছরে তাঁর বোলিংয়ের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হয়।
১৯২৩ সালে ১৩.৯৭ গড়ে ২১৯ উইকেট পান। ১৯২২ থেকে ১৯২৫ সময়কালে ৮৪৮ উইকেট দখল করেছিলেন। চৌদ্দ মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। বারো মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে আটবার ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন।
১৯২৪ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৩৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। পার্সি চ্যাপম্যান, জর্জ উড, হার্বার্ট সাটক্লিফ ও রয় কিলনারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঘটনাবহুল এ টেস্টে নিজের প্রথম বলে এমজে সাসকিন্ডকে বিদেয় করে টেস্টে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট পান ও তাঁর কাউন্টি অধিনায়ক আর্থার জিলিগানকে সাথে নিয়ে সফরকারীদেরকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩০ রানে গুটিয়ে দিকে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/১০৩ পান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর উন্নতি আশাতীতভাবে ঘটতে থাকে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯২৪-২৫ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৬/১৩০ ও ৫/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। বল হাতে নিয়ে ৪/৯২ ও ৫/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০৭ রানে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯২৮-২৯ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৭৭ ও ০/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২ ও ৪৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জ্যাক হোয়াইটের স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ১২ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জুন, ১৯২৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৪ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১৫ ও ১০০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১০৮ ও ১/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২০ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জেএল কারের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে ১৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১/১৫ ও ৩/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন।
১৯৩৫ সালে নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৪ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সিরিল ভিনসেন্টের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৭ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯২৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮ মে, ১৯৫৬ তারিখে সাসেক্সের ওয়াডহার্স্ট এলাকায় ৬০ বছর ৩৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পর ২১ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে তাঁর সম্পদের মূল্য ৮২৪ পাউন্ড ১৩ সেন্ট ৪ পেনি ধার্য্য করা হয়।
