৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৯ তারিখে স্কটল্যান্ডের রাদারগ্লেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। বার্চগ্রোভ পাবলিক স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। বিদ্যালয়ের দিনগুলোয় বিল হান্টের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিদ্যালয় জীবনে নিজেকে পরিচিতি ঘটাতে তৎপর হন। বিভিন্ন গ্রেড ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৪ বছর বয়সে রোজেল জুনিয়র টেকনিক্যাল স্কুলে চলে যান। ১৫ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগ করে কাজের সন্ধানে নেমে যান। কিপাক্সের অধীনে ক্রীড়া সরঞ্জামাদি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পঞ্চদশ জন্মদিনের পর প্রথম গ্রেডে খেলতে নামেন। এ পর্যায়ে তিনি গ্রেড ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার ছিলেন।
পায়ের অনিন্দ্যসুন্দর কারুকাজ ও স্ট্রোকপ্লেতে ভরপুর ছিল তাঁর ক্রিকেট জীবন। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৬ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। প্রথম পাঁচ খেলার প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে একটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। একটি শতকসহ তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন। সবগুলোই দ্বিতীয় ইনিংসে করেন। প্রথম ইনিংসে পাঁচবার খেলে ১৭ রান তুলেছিলেন।
১৯২৯ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র আট টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শতক হাঁকিয়ে অভিষেক খেলাটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। খেলায় তিনি ১৬৪ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩০ সালের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে বিল উডফুলের সাথে উদ্বোধনী জুটি গড়েন।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাকি গ্রান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৪৭.৪০ গড়ে ৪৭৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ৪৫.৬৫ গড়ে ৪৩৮৩ রান তুলেছিলেন।
ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে ফুটবল খেলায় অংশ নিতেন।
১৯৩২ সালে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা করান। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ক্লেফিল্ডস এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় মাত্র ২৩ বছর ১৬৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ফিলিপ হিউজের অকাল মৃত্যুর পর ৮১ বছর পূর্বের ২৩ বছরের প্রতিভাবান ও নিরহঙ্কারী হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হতে থাকে। সিডনিতে ব্যাপকসংখ্যক জনতা তাঁর শবানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
