২২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মালওয়ালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ডেভিড বার্নার্ড পালমান ও মেরি দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। মেলবোর্নের এমারল্ড হিলভিত্তিক ম্যাকগ্রিগর্স স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ইয়ং ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। বোলিংয়ে দক্ষতার কারণে সাউথ মেলবোর্ন ক্লাবে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
সচরাচর উচ্চ গতিতে ও নিখুঁততায় বোলিং করতেন। নিস্প্রাণ পিচসহ ব্যাটিং উপযোগী পিচেও নিজেকে বেশ মেলে ধরতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। খুবই ভালোমানের গড় ও স্ট্রাইক-রেটে প্রায় ছয়শত উইকেট দখল করেছিলেন।
১৮৮০ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। জর্জ বোনর, জিম স্লাইট, পার্সি ম্যাকডোনেল, টম গ্রুব, উইলিয়াম মোল ও জর্জ আলেকজান্ডারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম প্রকৃত টেস্ট খেলায় তিনি ৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১১৬ ও ৩/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলায় অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে এডউইন ইভান্সের সাথে জুটি গড়ে ইংল্যান্ড দলকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেন। চার বল নিয়ে গড়া ১১৫ ওভার নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁরা বোলিং করেছিলেন। এটিই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা হিসেবে দুইজন বোলার ব্যবহৃত হয়েছিলেন।
ইংল্যান্ড সফর করতে ভালোবাসতেন ও প্রত্যেক সফরেই বেশ সফলতার সন্ধান পান। হাঁটুর আঘাতের কারণে তাঁর স্বাভাবিক খেলায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে সড়ে আসতে বাধ্য হন। আরও কিছুকাল প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অব্যাহত রাখেন। তবে, পূর্বের ন্যায় খেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।
১৮৮৪ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৭ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৮১ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৮৮৬ সালে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৮৭ সালে হাঁটুর আঘাতের কবলে পড়লে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে দূরে সড়ে যান। এরপর, লঞ্চেস্টনে কোচ ও মাঠ কর্মকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন ও রাজ্য দলের পক্ষে খেলেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। লুসিন্ডা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভিক্টোরিয়ায় চলে যান। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ২২ আগস্ট, ১৯১০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বাড্ডাজিনি এলাকায় ৫১ বছর ১৮১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
