১৭ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
পার্সি পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা বোম্বের ব্যবসায়ী ছিলেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বেশ দেরীতে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। ২৬ বছর বয়সে পার্সি দলের সদস্যরূপে বোম্বে পেন্টাগুলার প্রতিযোগিতায় মুসলিম দলের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৫.১ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান ও উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দুই খেলা পর নয়ানগরের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৯১ লাভ করেন। এ খেলার কল্যাণে বোম্বে শহরে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান ও দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার সুযোগ পান। নিরবিচ্ছিন্ন অবস্থায় বোলিং করে প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিনু মানকড়কে শ্রেয়তর বিবেচনায় আনা হলে ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড ও ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁকে বঞ্চিত হতে হয়।
১৯৪৮ সালে এইচডি কঙ্গা লীগের উদ্বোধনী আসরে সিসিআইয়ের পক্ষে খেলেছেন। ঐ প্রতিযোগিতার ইতিহাসের প্রথম দুই হ্যাট্রিক লাভের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রতিপক্ষ ছিল ক্যাথলিক জিমখানা ও বোরা ক্রিকেটার্স। এ সাফল্যের কারণে তাঁর টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা না করলেও তিনি টেস্ট খেলার সুযোপ পান।
১৯৪৮ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। স্বাধীন ভারতের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণকালীন তাঁর বয়স ছিল ৩৮ বছর। ১০ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। কেসি ইব্রাহীমের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ধীরলয়ে দূর্বল খেলা প্রদর্শন করেন। অবস্থা আরও গুরুতর হয়। সীমানায় বল থামানোর চেষ্টাকালে চোঁট পান। ১৯ ওভার বোলিং করে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৬৩১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় এগুতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সাধারণমানের ক্রিকেটার ছিলেন না তিনি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে বিনু মানকড়ের সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। মূল বিষয় ছিল যে, তাঁর বামহাতি স্পিনের সাথে ব্যাট হাতে তেমন খেলতে পারতেন না। ফলশ্রুতিতে, মাত্র ৪০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৮.৭৭ গড়ে ১৪৮ উইকেট দখল করেছিলেন।
তাঁর প্রশিক্ষণ শিবিরে শিক্ষার্থীদেরকে দুইটি চাপাতি ও ডাল দেয়া হতো। তবে, ফাস্ট বোলার হিসেবে কপিল দেব আরও দাবী করলে তিনি বলেছিলেন যে, ভারতে কোন ফাস্ট বোলার নেই। এ ঘটনার জের ধরেই কপিল দেবকে ফাস্ট বোলার হিসেবে চিত্রিত করতে সহায়তা করে।
১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভারতের ঐতিহাসিক সফরে ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে, সিসিআইয়ের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৫ জুন, ১৯৮৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের পুনেতে ৭৫ বছর ১৮০ দিন বয়সে সড়ক দূর্ঘটনায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
