২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের টিফন্তেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নতুন বলে বেশ সুইং আনতে পারতেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৫ জুন, ১৯২৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টাপি ওয়েন-স্মিথ, ব্রুস মিচেল ও জিম ক্রিস্টি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬২ ও ১/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে দীর্ঘক্ষণ বলে সুইং আনয়ণ করে আশানুরূপ সফলতা পান। এ পর্যায়ে ডব্লিউআর হ্যামন্ডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৬২। বল হাতে নিয়ে ৬/৯২ ও ০/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ৫ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
স্যান্ডি বেলের সাথে জুটি গড়ে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিজস্ব প্রথম টেস্ট সিরিজে বেশ সপ্রতিভ ছিলেন। এইচ. জি. ওয়েন-স্মিথের পর বোলিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ২৩.৮৯ গড়ে ৬৫ উইকেট দখল করেছিলেন। শুষ্ক গ্রীষ্মে বেশ ভালো খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাটিং উইকেটের ন্যায় টার্ফ উইকেটে সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৩১-৩২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরেও শূন্যে বলকে বেশ ঘুরানোয় সক্ষমতা দেখান। এমসিজিতে প্রথম ইনিংসে ডন ব্র্যাডম্যানকে মাত্র দুই রানে বিদেয় করেছিলেন। স্যান্ডি বেলকে সাথে নিয়ে নিজেদের মধ্যে নয় উইকেট বণ্টন করে নেন ও স্বাগতিক দলকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ডন ব্র্যাডম্যান ও বিল উডফুলের শতকের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল রুখে দাঁড়ায় এবং জয় তুলে নেয়। এমনকি ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টেও ব্র্যাডম্যানকে সমস্যায় ফেলছিলেন। তবে, তাঁর বোলিংয়ে ক্যাচ ফস্কে যায়। অস্ট্রেলিয়া সফরে ৫১২ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করে এ. জে. বেলের পর বোলিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ডন ব্র্যাডম্যান তাঁর সম্পর্কে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৪-এর কম গড়ে ৪২ উইকেট পেয়েছিলেন।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৬ ও ৩/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/৫১ ও ৪/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ৬.০০ গড়ে মাত্র ৯০ রান তুলতে পেরেছিলেন।
৫ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে কিম্বার্লীর কেনিলওয়ার্থ এলাকায় মাত্র ২৬ বছর ১৬৫ দিন বয়সে আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
