১৪ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পার্ল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ২৩ বছর বয়সে ইস্টার্ন প্রভিন্স দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে থেকে অস্ট্রোলাসিয়া সফরে যান। এ পর্যায়ে তাঁর কোনরূপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ছিল না। ঐ সিরিজে তিন টেস্ট খেলেন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভিড পিদি, ডেনিস লিন্ডসে, জো পারট্রিজ, কেলি সেম্যুর ও গ্রায়েম পোলকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

নিউজিল্যান্ডে দুই টেস্ট ও ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে মাইক স্মিথের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুই টেস্টে অংশ নেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রানের সমকক্ষ হন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে জিকিবার্হায় সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

আট টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৬৬ রান স্বত্ত্বেও, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম আফ্রিকানার হিসেবে ১৯৬৫ সালে দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে দলটির বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের দ্বিতীয় সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন। ট্রেন্ট ব্রিজে পোলক ভ্রাতৃদ্বয়ের বীরোচিত ভূমিকায় ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে সমর্থ হয়। দলের সংগ্রহ ৮০/৫ থাকা অবস্থায় গ্রায়েম পোলকের সাথে জুটি গড়েন। তিনি ৩৮ রান তুলে বিদেয় নেন।

১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে স্প্রিংবককে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৩১ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ফ্রেড রামসে’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন সফররত অজি দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়লাভ করে তাঁর দল। জোহানেসবার্গ টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। এরপর, কেপটাউনে ৫০ ও ডারবানে ৪২ রান তুলেন। ৩-১ ব্যবধানে দলের সিরিজ বিজয়ের পর খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে যান।

২০ জানুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখ ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর, আরেক মৌসুম ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলার পর আর টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেননি।

স্লো লেফট-আর্ম বোলার হিসেবে খেললেও পরবর্তীকালে অল-রাউন্ডারে পরিণত হন। শেষদিকে এসে কেবলই ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঝারিসারিতে খেলতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করেন ও ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিলেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পুণরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্তর্ভুক্তিকালীন দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। দলকে নিয়ে ভারত সফরে যান। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অতঃপর, রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইসিসি মনোনীত ম্যাচ রেফারি হিসেবে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সময়কালে ২৯ টেস্ট ও ৭১টি ওডিআই পরিচালনা করেছেন।

মৃত্যুর পূর্বে স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে ২৩ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ এলাকায় ৭৫ বছর ৩১৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    ল্যান্স ক্লুজনার

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জুলু ও খোসা ভাষায় সহজাত দক্ষতা থাকায় তিনি ‘জুলু’ ডাকনামে ভূষিত হন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • | | |

    ব্যারি রিচার্ডস

    ২১ জুলাই, ১৯৪৫ তারিখে নাটালের মর্নিংসাইড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে…

  • | |

    ওয়ালি হার্ডিঞ্জ

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের গ্রীনউইচ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ফুটবলার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০২ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কেন্টের ৬৪তম ক্যাপধারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল…

  • |

    সোহরাওয়ার্দী শুভ

    ২১ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। গতিসম্পন্ন বামহাতি অর্থোডক্স বোলিং করেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে পছন্দের বোলারদের তালিকায় সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। স্বল্পকালীন সময় বাংলাদেশ দলে অবস্থান করে সীমিত পরিসরে…

  • | |

    প্যাটসি হেনড্রেন

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৯ তারিখে মিডলসেক্সের টার্নহাম গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৯০৫ সালে লর্ডসের মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। ১৯০৭ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত…

  • | |

    অরুণ লাল

    ১ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘পিগ্গি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। পিতা, কাকা, কাকাতো ভাই – সকলেই তাঁর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।…