১০ জুন, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০২-০৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ব্লুজ, পোর্ট কাসিম অথরিটি ও বাংলাদেশী ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, করাচী ডলফিন্স, করাচী হারবার, করাচী কিংস, করাচী আরবান ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম খেলাতেই পেশাওয়ারের পক্ষে ৭৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দেন। কয়েক বছর পর্দার অন্তরালে চলে যান। তবে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে করাচী হোয়াইটসের পক্ষে বেশ শক্তভাবে ফিরে আসেন। দুই শতক সহযোগে প্রায় ৫০০ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। এ পর্যায়ে পাকিস্তান দলে উপযুক্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ঘাটতি ছিল।
আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর দাঁড়ানোর ভঙ্গীমা অনেকাংশেই ইজাজ আহমেদের অনুরূপ ছিল। অবশেষে, ২০০৭-০৮ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ৫৩.৯০ গড়ে সহস্রাধিক রানের সন্ধান জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পান। পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলেন।
২০০৮ থেকে ২০১৬ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট, সাতটিমাত্র ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ওডিআই দলের সদস্য হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ঐ খেলায় দূর্দান্ত অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে করাচীতে ব্যাটিং উপযোগী পিচে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সোহেল খানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইউনুস খানের মনোরম ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৩-১৪ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৪ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৪৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর শতকের কল্যাণে পাকিস্তান দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৫ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
