১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৬ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের বুন্দাবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
কুইন্সল্যান্ডের বংশোদ্ভূত উইলিয়াম লেসলি টলন ও তদ্বীয় পত্নী ক্যাথরিনের ষষ্ঠ সন্তানের মধ্য দ্বিতীয় ছিলেন। নর্থ বুন্দাবার্গ স্টেট স্কুলে অধ্যয়ন করেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনান্তে পিতার সাথে বুন্দাবার্গ ফাউন্ড্রিতে শিক্ষানবীশ ছাঁচকার হন। তাঁর পরিবার ক্রিকেট অনুরাগী ছিল। পিতা ১৯১২ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত বুন্দাবার্গের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। লেসলি বিল নামীয় ভ্রাতা কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। অন্য ভ্রাতা ম্যাথু বুন্দাবার্গভিত্তিক ক্রিকেট ও হকির প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরূপে হাজির হয়েছিলেন।
খুব ছোটবেলা থেকেই উইকেট-রক্ষণে সিদ্ধহস্তের পরিচয় দেন। ১৩ বছর বয়সে কুইন্সল্যান্ডের বিদ্যালয় বালকদের ক্রিকেট দলে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনসহ উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে এসেছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে ব্রিসবেনে কান্ট্রি উইক চলাকালীন বুন্দাবার্গের পক্ষে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢিলেঢালা প্যাড পড়ার কারণে কুইন্সল্যান্ডের দল নির্বাচকমণ্ডলীকে নিবীড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়।
নরম্যান প্লাইস্টেড তাঁকে ব্রিসবেনে নিয়ে আসেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে টুম্বুল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। নিজস্ব করাতকলে তাঁর চাকুরী নিশ্চিত করেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ সালে টুওম্বায় কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি দলের সদস্যরূপে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে খেলেন। এ পর্যায়ে হার্বার্ট সাটক্লিফকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। ঐ মৌসুম শেষে পুণরায় বুন্দাবার্গে ফিরে আসেন।
১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খুব দ্রুত তাঁর উত্থান ঘটে। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক বার্ট ওল্ডফিল্ডকে পাশ কাটিয়ে ডন ব্র্যাডম্যান তাঁকে ১৯৩৮ সালের অ্যাশেজ সফরে নিতে চেয়েছিলেন; কিন্ত তিনি এতে সায় দেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দলীয় সঙ্গীদের অনেকের ন্যায় তিনিও ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন।
১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৩ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে বিল ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। কিউইদের বিপক্ষে টেস্টের ইতিহাসে এটিই অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী খেলা ছিল। ২৯ মার্চ, ১৯৪৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কলিন ম্যাককুল, আর্নি টোশ্যাক, ইয়ান জনসন, কিথ মিলার ও রে লিন্ডওয়ালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচের সাথে নিজেকে জড়ান। চার-দিন নিয়ে গড়া ঐ টেস্টটি দুই দিনে শেষ হয়ে যায়। স্বাগতিক দল ৪২ ও ৫৪ রানে গুটিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানে পরাভূত হয়।
১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান ও দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পান। এমসিজিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে ৯২ রানের মনোরম ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৫৩ সালে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ডন ব্র্যাডম্যান তাঁকে সর্বকালে সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ৫৮টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন তিনি। পেসারদের বল সামলানোর পাশাপাশি চমৎকারভাবে রে লিন্ডওয়াল, কিথ মিলার ও বিল ও’রিলি’র বল যথাযথভাবে গ্লাভসবন্দী করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই কন্যার জনক। ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে ৬৮ বছর ২০৩ দিন বয়সে কুইন্সল্যান্ডের বুন্দাবার্গে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
