১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পার্কসাইড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। উভয়দিক দিয়েই বলকে ঘুরাতে পারতেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৪৯ খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯.২৬ গড়ে ২৮২ উইকেট দখল করেছিলেন। শেফিল্ড শীল্ডে কমপক্ষে ২০ খেলায় অংশগ্রহণকারী বোলারদের মধ্যে ১৭.৮৭ গড়ে উইকেট লাভ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তিনবার শীল্ডে সর্বাধিক উইকেট পেয়েছেন। ১৯৪৭-৪৮, ১৯৫১-৫২ ও ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে এ সফলতা পান। সবগুলো ক্ষেত্রেই সাউথ অস্ট্রেলিয়া দল শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা জয় করেছিল।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩ মার্চ, ১৯৫০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ৩/২১ ও ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫৯ রানে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাডিলেড ওভালে অবশিষ্ট টেস্টগুলোয় অংশ নেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্টে অংশ নেন। এ মৌসুমে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/৭ ও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩* ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৫ ও ১/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্র হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
শেফিল্ড শীল্ডে নিজের শেষ মৌসুমে ৩৫ উইকেট পেয়েছিলেন ও রাজ্য দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। তবে, ১৯৫৩ সালের অ্যাশেজ সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ফলশ্রুতিতে, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
টেস্টগুলো থেকে ২৬.১৪ গড়ে সাত উইকেট দখল করেছিলেন। কিথ মিলার, রে লিন্ডওয়াল ও বিল জনস্টনের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়ের কারণে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। কেবলমাত্র আঘাতজনিত স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৯.২৬ গড়ে ২৮২ উইকেট পেয়েছিলেন। খুবই স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে বিশের নীচের কম গড়ে উইকেট লাভ করেছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/২৯ লাভ করেন।
একবার প্রস্তুতিমূলক খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান ফ্রাঙ্ক ওরেলকে কিং পেয়ার করেছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করলেও ইংল্যান্ডে খেলতে যান। ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে নেলসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৬ সালে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেটের বাইরে বেসবল খেলায় রাজ্য দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলকে প্রশিক্ষণ দেন। দীর্ঘদিন রাজ্য দলের নির্বাচক ও বোর্ড সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে এসএসিএ’র সম্মানসূচক আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৬ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ৮৯ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
