২৪ মে, ১৮৯৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাবল বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘স্টর্ক’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির দীর্ঘকায় গড়নের কারণে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বলে বেশ সুইং আনতে পারতেন। সিডনি গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে প্রথম স্তরের ক্রিকেটের সাথে যুক্ত হন। নিজের উচ্চতার পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহারে অগ্রসর হয়েছিলেন। উঁচু হয়ে আসা বলে ড্রাইভ কিংবা শক্তিধর কাট ও হুকে সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। দীর্ঘ বাহু নিয়ে বেশ ভালোমানের বোলিং করতেন। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবে অসাধারণ ছিলেন।
১৯১৮-১৯ মৌসুম থেকে ১৯৩২-৩৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৮-১৯ মৌসুম থেকে ১৯২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩২-৩৩ মৌসুম পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া সাথে যুক্ত থাকেন।
১৯২১ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২১ সালে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৬তম জন্মদিন উদযাপনের কয়েকদিন পর ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টমি অ্যান্ড্রুজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এ সফরে গ্রিগরি’র সাথে স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিলেন। এরপর থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত বাদ-বাকী টেস্টগুলোর কোনটিতেই তাঁর সহজাত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারেননি।
১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/২১ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৯ ও ১/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ২০.৯৩ গড়ে ৩৩৫ রান সংগ্রহসহ ৪০.০০ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেছিলেন। অথচ, এ সময়ে শক্তিধর অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন। এসসিজিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট চলাকালীন ক্রিকেট জারের পরামর্শক্রমে খেলা ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ আনেন। জনৈক মি. এক্সের কাছ থেকে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিচি বেনো তাঁকে এ পরামর্শ দেন। তবে, রিচি বেনো এ অভিযোগ শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন।
প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩৭.৫৬ গড়ে ৬৭৯৯ রান সংগ্রহসহ ২৯.০২ গড়ে ২২৯ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, ১৫১টি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের রোজ বে এলাকায় ৯৩ বছর ২০৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন টেস্ট ও শেফিল্ড শীল্ডের প্রবীণতম ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
